মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন
আবুল হাসনাত মিনহাজ: মাঝারি ও ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীতে সৃষ্টি হয় মারাত্মক জলাবদ্ধতা।নগরীর প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা খাতুনগঞ্জ,চকবাজার, প্রবর্তক মোড়, ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চাক্তাই, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ ২২টি এলাকায়।বুধবার বিকেল থেকেই ভারী বৃষ্টি তলিয়ে গেছে শহরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও রাস্তাঘাট।এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।এদিকে সকালে ভারী বৃষ্টির মধ্যে বিপাকে পড়েন অফিসগামী যাত্রীরা।অনেক সড়কে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল।ইঞ্জিনে পানি ঢুকে গাড়ি যত্রতত্র বিকল হয়ে পড়ে থাকে দীর্ঘ সময়।ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হয়েছে।পানিতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। অচল হয়ে পড়েছে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
মাঝারি ও ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরী কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়।আগে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সিটি করপোরেশন নালা-নর্দমা পরিষ্কার করলেও এখন করছে না বলে অভিযোগ নগরবাসীর।নালা-নর্দমা পরিষ্কার না করার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।প্রশ্ন দেখা দিয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্বে এত ব্যর্থ কেন ?
স্বল্প সময়ে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় চট্টগ্রামের অনেক এলাকায় জনজীবন অনেকটা বিপর্যস্ত হয়েছে। এটা কি এড়ানো যেত না? অবশ্যই এড়ানো যেত, যদি পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা উন্নত থাকত। কিন্তু চট্টগ্রাম শহরে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ক্ষেত্রগুলো ভরাট হয়ে গেছে।শহরের অধিকাংশ খাল মরে গেছে,জলাশয় দখল হয়ে গেছে। যে কটি এখনো টিকে আছে, সেগুলোয় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে গেছে।ফলে বৃষ্টির পানি সরতে পারছে না।
চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে ১১৪ দশমিক ৬ মিলিমিটার।আবহাওয়াবিদদের মতে, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে ভারী, ১১ থেকে ২২ মিলিমিটার হলে মাঝারি বৃষ্টিপাত, আর ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিকে হলে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিপাত বলা হয়।
নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব ছিল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক বা সিডিএ)।খাল খনন, নামে তারা কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে বাড়ছে জলাবদ্ধতা।
তবে সিটি মেয়র পানিনিষ্কাশনের কিছু বাস্তব সমস্যাও তুলে ধরেছেন।বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পর যে নদীতে যাবে, তার নাব্যতাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।চট্টগ্রামের চারপাশের খাল ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে গেছে এখন প্রায় মুমূর্ষু।প্রতিটি খালের অংশ মারাত্মকভাবে দখল ও দূষণের শিকার। জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ পলিথিনের যথেচ্ছ ব্যবহার। রাস্তায়, নালায়, খালে যত্রতত্র পলিথিন ফেলে পানিনিষ্কাশনের পথ বন্ধ করা হয়েছে। এ থেকে উত্তরের উপায় হলো পলিথিনের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করা। সেই সঙ্গে সব খাল দখলমুক্ত করতে হবে।
নগরের শোলকবহর এলাকার বাসিন্দা রাসেল বলেন,‘প্রায় ২৫ বছর ধরে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করছি। প্রতি বছরই বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা হয়।’নগরের মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা সারওয়ার হোসেন জানান, ”বৃষ্টির মধ্যে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও কোনো যানবাহন না পেয়ে হেঁটেই চকবাজারে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এসেছেন তিনি।”মুরাদপুরের বাসিন্দা হাসান কবির বলেন, ‘হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল। কয়েকটির কাজও নাকি শেষ হয়েছে। তাহলে আজকে নাগরিকদের এভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হবে কেন? হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট পরের কথা। নালাগুলোও পরিষ্কার করা হচ্ছে না। তাহলে সিটি করপোরেশন করছে কি? আবর্জনা অপসারণ না করায় সামান্য বৃষ্টিতেও এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।আসলে আমরা ভালো নেই।’
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস বলছে,বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) চট্টগ্রামে সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১১৪ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামে আরও বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানান তিনি।