বৃহস্পতিবার, ০৪ Jun ২০২৬, ০২:৩৯ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক: লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর আরও দুই কমান্ডারকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয়। এর আগে গত মাসের শেষের দিকে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হন। সে সময় হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করে যে, তাদের শীর্ষ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের নেতা হাসান নাসরাল্লাহকে হত্যা করা হয়। হিজবুল্লাহর এই শীর্ষ নেতার প্রচুর সমর্থক রয়েছে। বিশেষ করে, লেবাননে শিয়া নির্বাচনী এলাকায় তার জনপ্রিয়তা অনেক। সেখানকার লোকজন তাকে বাবার মতো সম্মান করেন। তিনি সেখানে এমন একজন ধর্মীয় নেতা এবং সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব যিনি লেবাননের লোকজনের অবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছেন। হিজবুল্লাহর সর্বশেষ যে দুজন কমান্ডার নিহত হয়েছেন তারা হলেন- আহমেদ মুস্তফা আলহাজ আলী এবং মোহাম্মদ আলী হামদান। আহমেদ মুস্তফা কিরিয়াত শমোনা শহরে শত শত রকেট এবং অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জন্য দায়ী ছিলেন বলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে। এছাড়া মোহাম্মদ আলী হামদান উত্তর ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর জন্য দায়ী বলেও জানানো হয়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা লেবাননের বৈরুত শহরের একটি অস্ত্রের গুদাম এবং দক্ষিণ লেবাননের বেশ কিছু সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের মন্তব্য করা হয়নি। এদিকে গাজায় নতুন করে বুধবার (৯ অক্টোবর) ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও কমপক্ষে ৬৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই উত্তরাঞ্চলের। সেখানে ছয় দিন ধরে অবরোধের কারণে জাতিসংঘের যেসব স্কুল আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছিল এবং একই সঙ্গে হাসপাতালগুলো বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এছাড়া পশ্চিম তীরে গুলি করে কমপক্ষে চার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। নাবলুস শহরের গভর্নর এই ঘটনাকে একটি কাপুরুষোচিত এবং ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছেন। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী লেবাননেও হামলা অব্যাহত রেখেছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওয়ার্দানিয়েহতে কমপক্ষে পাঁচজন এবং টায়ার জেলায় আরও পাঁচজন প্যারামেডিককে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রায় এক বছর ধরে গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। সেখানে ইতোমধ্যেই ৪২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৪২ হাজার ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ৯৭ হাজার ৭২০ জন।