শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন

ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে ২৯২ কোটি টাকা হরিলুট, অনুসন্ধানে দুদক

ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে ২৯২ কোটি টাকা হরিলুট, অনুসন্ধানে দুদক

মুর্শেদ মারুফ, বিশেষ প্রতিনিধি 
ময়মনসিংহ জেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি প্রকল্পে বেকার যুবক – যুবতীদের  প্রশিক্ষণ প্রদান না করে কিভাবে প্রশিক্ষকের সম্মানীভাতা, ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের সাবেক উপ- পরিচালক ফারজানা পারভীন, সহকারী পরিচালকগণ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাগণসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের নামে বেনামে লাখ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে তার একটি নমুনা তুলে ধরা হয়েছে।

(১) মফিজুল ইসলাম, পরিচালক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি তদন্ত কাজে ময়মনসিংহ আসেন। আসার পর তাদেরকে ময়মনসিংহ ইন্টারন্যাশনাল মোস্তাফিজ আবাসিক হোটেলে রাখা হয় এবং খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ফারজানা পারভীনসহ অন্যান্য সকল অভিযুক্ত কর্মকর্তারা মোস্তাফিজ হোটেলে বসে একটি প্রতিবেদন তৈরী করেন। এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিকট থেকে একটি লিখিত পত্র সংগ্রহ করেন। যেখানে তারা সকলেই প্রত্যয়ন দেন যে তারা কোন দুর্নীতি করেন নাই, যথারীতি তদন্ত কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা গ্রহন করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এবার দেখা যাগ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটির প্রধান আলী রেজা, যুগ্ম সচিব তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি ময়মনসিংহে আগমন করেন। ফারজানা পারভীন এর নেতৃত্বে কতিপয় অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে ময়মনসিংহ আন্তর্জাতিক মানের হোটেল সারিন্দা-তে রাত ৮.০০টায় আলোচনায় বসেন এবং পরিচালক মফিজুল ইসলাম এর তদন্ত রিপোর্ট তাদের নিকট দাখিল করেন। তারা সকলেই এরকম রিপোর্ট দেওয়ার জন্য তার সঙ্গে রফা দফা করেন। সে মোতাবেক ময়মনসিংহে চার দিন অবস্থান করেন তদন্ত কমিটি । প্রথম দিন আবাসিক যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দুপুর ১.০০টা পর্যন্ত ক্লাশ গ্রহন করেন, তারপর বেলা ২.০০ টায় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ফুলবাড়ীয়ার নিমন্ত্রনে (২২ প্রকারের খাবার) দুপুরে সেখানে গমন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আধা ঘন্টা কথা বলে দুপুরে খাবার খেয়ে চলে আসেন।

পরের দিন হালুয়াঘাট উপজেলায় সকাল ১১ ঘটিকায় পৌছে যুব উন্নয়ন কর্মকতার অফিসে নাস্তা গ্রহন করেন। হালুয়াঘাট পার্ক, ভারত সীমান্ত পার হয়ে অন্যান্য আকর্ষনীয় স্থান দর্শন করে পূণরায় উপজেলায় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার(অভিযুক্ত) দেওয়া (২০ প্রকারের) খাবার গ্রহন করেন এবং পরে ময়মনসিংহে চলে আসেন। আবার একই নিয়মে ময়মনসিংহের বিখ্যাত রেষ্টুরেন্ট Saffron -এ রাতের খাবার গ্রহন করেন। এভাবে গৌরীপুর গমণ করে গৌরীপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার দেয়া নাস্তা ও আপ্যায়ন গ্রহন। একইভাবে পরদিন নান্দাইল ভ্রমন। সেখানেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ তারপর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার দেয়া দুপুরের রাজকীয় ভোজ গ্রহন, তারপর নান্দাইল উপজেলায় দর্শনীয় স্থান সমূহ দেখে রাত্রে থাকার হোটেলে তদন্তকারী কর্মকর্তার দলবলকে আবার রাত্রে হোটেলে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

একইভাবে শেষ উপজেলা ত্রিশাল-এ গমন করার পর কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য স্থাপনা দেখেন। তারপর দুপুরের খাওয়া যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার দেয়া ভোজে অংশ গ্রহন করেন এবং মফিজুল ইসলাম-এর রিপোর্টের সংগে একমত থাকায় তদন্ত কার্যক্রম আর নতুন করে পরিচালনা করার প্রয়োজন হবেনা। তবে পরিচালক মফিজুল ইসলাম এর তদন্ত রিপোর্টের মত রিপোর্ট চাইলে খরচের পরিমান হবে জনপ্রতি ৫(পাঁচ)লক্ষ। তদন্তটিমের জুনিয়র কর্মকর্তা ফরহাত নূর, উপপরিচালক (যিনি ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির ১৪ কোটি টাকা আত্মসাৎের সাথে জড়িত থাকায় মন্ত্রণালয় হতে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী ও বিভাগীয় মামলা চালু করার সুপারিশ করা হয়েছে) এর মাধ্যমে সব Contact সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া ফারজানা পারভীনের নিজ গ্রামে (শশুরবাড়ীর) ভালুকায় তার স্বামীর বন্ধু ডাঃ জহিরুল ইসলাম (উপ- সচিব) ফারজানা পারভীনকে ময়মনসিংহে আনার জন্য প্রায় তার নিকট থেকে দুই বছর পূর্বেই দশ লক্ষ টাকা গ্রহন করেছেন বলে একাধিক সুত্রে জানা যায়। মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যাবে ফারজানা পারভীন দীর্ঘ ১৮ বছর ময়মনসিংহে চাকুরী করার পরও তাকে ময়মনসিংহ আনতে আরো অনেক খরচ করতে হবে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত ফারজানা পারভীন ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির জেলা জামালপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ -এ চারুরী করে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির মাধ্যমে অবৈধভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করেছে বলে অনুসন্ধানে উঠে আসে ।

প্রতিমন্ত্রীর উদ্দেশ্য ভাল ছিল। সঠিকভাবে তদন্ত করে অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় এনে সরকারী অর্থ আদায় করে সরকারী কোষাগারে জমা করা। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ নিজেদের পকেটভারী করে অভিযুক্তদের অর্থের বিনিময়ে বাচিয়ে দিতে চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে অভিযুক্তদের (ফারজানা পারভীনসহ) আদালতের নির্দেশে দুদক মামলাটি অনুসন্ধান ও তদন্ত করছেন। দুদক বলছে কোন অভিযুক্ত পার পাবেনা।

দাখিলকৃত অভিযোগের বিষয় দু’একটি প্রামান্য দালিলিদ প্রমান তুলে ধরা হয়েছে। (১) একই সময়ে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির চলমান প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে জেলা কমিটিতে সভাপতি, জেলা প্রশাসক, সদস্য সচিব উপপরিচালক, উপজেলা কমিটিতে সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সদস্য সচিব উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা। ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির প্রশিক্ষণ কোর্সে জেলা প্রশাসক সেসন পরিচালনা করেছেন ১০টি, তার বিপরীতে উপপরিচালক ফঅরজানা পারভীন সেসন পরিচালনা করেছেন ২০০০টি(প্রতিটি ১ ঘন্টায়) এবং সহকারী পরিচালকগণ গ্রহন করেছেন ৫০০০টি (প্রতিটি ১ ঘন্টায়) এবং সম্মানী গ্রহন করেছেন (প্রতি সেসন x ১০০০=১০০০), উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা গ্রহন করেছেন ১০০০-১২৮০টি, এভাবে জেলা ও উপজেলায় প্রাক্তন উপপরিচালক ফারজানা পারভীন এর নেতৃত্বে প্রশিক্ষণ না করেই প্রশিক্ষণের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

জেলা কার্যালয়ের একজন মৎস্য প্রশিক্ষক বদরুজ্জামান ফকির যিনি Paralysed তাকেও দেখানো হয়েছে ৮১৮টি ক্লাশ। এভাবে অনেক কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ত্রিশাল উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার তদন্তে উল্লেখ করেছেন ২৩২ জন প্রশিক্ষণার্থী ভূয়া, তাই ৫২ লক্ষ টাকা সরকারী কোষাগারে জমা রাখা হউক। এরকম আরো সুনির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করার পরও তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ কোন কিছু তদন্ত না করে নিজের পকেট ভারী করে চলে যান। তাদের বিষয়ে কে ব্যবস্থা নিবেন। অথচ সারা দেশ ব্যাপী ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিতে কি পরিমান দূর্নীতি হয়েছে তার সঠিক চিত্র জানার জন্য ইতিমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানাচ্ছি কমিটির কার্যক্রম সঠিক করছে কিনা তাও মনিটরিং-এ রাখা দরকার(মামলার আরজি সংযুক্ত)।

ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান কার্যালয়ের কতিপয় কর্তকর্তা/কর্মচারীর যোগসাজসে মাঠ পর্যায়ে কতিপয় Selected নির্বাচিত কর্মকর্তা দ্বারা কর্মসূচি সম্পন্ন বা কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত নয় এরকম এলাকায় মারাত্মক দূর্নীতির চিত্র আসার সংগে সংগে আবার নির্বাচিত কতিপয় কর্মকর্তা দ্বারা তদন্ত সম্পন্ন করে দূর্নীতিকে আড়াল করা এসবই কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারসাজি। যেমন সিলেট, গাইবান্ধা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, শেরপুর জেলার IBAS++ বরাদ্দ, প্রশিক্ষণ/প্রশিক্ষক সম্মানী, সংযুক্তি ইত্যাদি সঠিকভাবে দুদক দ্বারা তদন্ত করলে সব বের হয়ে আসবে।

যেমন ৩৬ জেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি চালু ছিল, তার মধ্যে জামালপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ তিন জেলায় অভিযুক্ত দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা জনাব ফাপরজানা পারভীন দায়িত্বে ছিলেন। এভাবেই একই কর্মকর্তাকে দিয়ে দূর্নীতি করানো হয়েছে।
ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির জেলা/উপজেলা পর্যায়ে প্রদানকারী এবং নিয়ন্ত্রনকারী হিসেবে অবৈধভাবে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রদান করে এবং তাদের নিকট থেকে অবৈধ সুবিধা গ্রহন করে জনাব আলী আশরাফ, উপপরিচালক(অর্থ) আজ কোটি কোটি টাকার মালিক। যারা তাকে দীর্ঘ ১৩ বৎসর যাবৎ এ পদে বসিয়ে অবৈধ সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেছেন তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা জরুরী। কেননা, তারাই এসকল অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সমূহ তদন্ত করে তাদেরকে মাফ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং তাদেরকে তাদের সুবিধা জনক স্থানে পদায়নের ব্যবস্থা করেন।

ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় ৩৬ জেলার উপপরিচালককে তাদের পূর্বের কর্মস্থণের বাইরে রেখে দুদক এর মাধ্যমে তদন্ত করলে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হবে এবং দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতায় আনা যাবে। যু্ব প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত সৎ, কিন্তু তার আশপাশের কর্মকর্তাগণ অত্যন্ত সূর্নীতিবাজ হওয়ায় তারাই এসকল অবৈধ কাজগুলি সম্পন্ন করে চলেছেন। তাছাড়াও যুব সচিব নতুন কিন্তু তার পুরাতন কর্মকর্তাগণ দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের রক্ষার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে চলছে। যেমন অবৈধ নিয়োগ কমিটির সভাপতি নির্বাচন, আব্দুল হামিদকে রক্ষা করা, বর্তমানে তার আজ্ঞাবহ মরিয়ম, ফারিহা নিশাতকে বদলী করে আনার ব্যবস্থা করা। জনাব ফারজানা পারভীন, উপপরিচালককে বদলী করে ময়মনসিং আনার জন্য মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা করে দেখা যাবে, বদলীর জন্য অধঃস্তন কর্মকর্তারা ১০০বার নথি উঠিয়েছেন। মন্ত্রী মহোদয় একদিন বলেছেন, আপনার মত এত তদবিরবাজ কর্মকর্তা আর কোনদিন দেখিনি। আপনি ময়মনসিংহ ১৮ বৎসর চাকুরী করার পর আবার ময়মনসিংহ বাড়ীতে বসে চাকুরী করতে চান, রান্না করবেন, বাসায় থাকবেন?

জানা যায়, জনাব ফারজানা পারভীন ১৭ মার্চ,২০২৩ কিশোরগঞ্জ জেলায় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন না করে তিনি বলেন, কি হবে মরা মানুষের জন্মদিন পালন করে? তাছাড়াও এই বিএনপি জামাতপন্থী কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন করেইনা এবং তার সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করে আবার ডি এস জহিরুল ইসলাম তার বেয়াই এবং পরিচালক, আঃ হামিদ তার আত্মীয় হওয়ায় কিশোরগঞ্জ দুই বছরের একদিনও কর্মস্থলে না থেকে ২/৩ দিন পর পর ময়মনসিংহ যাওয়া আসা করেন। এসবই দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আঃ হামিদ ও ডি এস জহিরুল এর খেলা

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |