রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন

হঠাৎ কেন আলোচনায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর?

হঠাৎ কেন আলোচনায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর?

নিজস্ব  প্রতিবেদক: হঠাৎ আলোচনায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। এক সময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ১৫ বছর ধরে কারাগারে। তাকে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা গেছে ২০২১ সালের অক্টোবরে দুদকের একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দেয়ার সময়। এখন তিনি কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসির রায়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির প্রহর গুনছেন।

কিছুদিন আগে ছাত্র আন্দোলনের কারণে বাংলাদেশে অস্থিরতা প্রসঙ্গে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন চলমান অবস্থা নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে তা প্রতিবেশী মিয়ানমারসহ ভারতের সেভেন সিস্টার্সে ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্তর্র্বতী সরকারের ক্ষমতা নেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনিডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নোবেলজয়ী এই অধ্যাপক এ কথা বলেন। তার এই বক্তব্যের পরেই হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লুৎফুজ্জামান বাবরকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে, ড. ইউনূস যে সেভেন সিস্টার্সের কথা বললেন সেটা আসলে কি? কেনই বা বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরি হলে সেভেন সিস্টার্সে তার প্রভাব পড়বে? ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম ও মেঘালয়। এই সাত রাজ্যকে একত্রে সেভেনে সিস্টার্স বলে। অনেকেই মনে করেন, লুৎফুজ্জামান বাবর ভারত সরকারের কাছে একটা আতঙ্কের নাম। লুৎফুজ্জামান বাবর সেভেন সিস্টারে বিদ্রোহী দল বানিয়ে দিয়ে ভারতে অস্থিতিশীল করে দিয়েছিলেন।

চীন-পাকিস্তান মিলে ভারতকে যতটুকু ক্ষতি করতে পারেনি তার চেয়ে বেশি লুৎফুজ্জামান বাবর করতে পেরেছেন। ২০০৪ সালে তিনি ১০ ট্রাক ভর্তি অস্র-গোলাবারুদ, রকেটের লঞ্চার নিয়ে ভারতে পাঠাতে চেয়েছিলেন। তখন তারা নিজেদের দেশে গৃহযুদ্ধে অবতীর্ণ ছিলো। অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম ও মেঘালয় মূল ভারত থেকে আলাদা হতে চেয়েছিল। আর সেখানের আন্দোলনকারীদের ১০ ট্রাক অস্ত্র সরবরাহ করতে চেয়েছিলেন এই লুৎফুজ্জামান বাবর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত করতে পারেননি।

এখন আসা যাক লুৎফুজ্জামান বাবর প্রসঙ্গে। ১৯৫৮ সালের ১০ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন লুৎফুজ্জামান বাবর। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এইচএসসি পর্যন্ত। ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো নেত্রকোনা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বাবর। এরপর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সর্বশেষ ২০০১ সালে লুৎফুজ্জামান বাবর নেত্রকোনার একটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট বাংলাদেশে সরকার গঠন করার পর যে কয়েকজন ব্যক্তি প্রবল ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন, তাদের মধ্যে লুৎফুজ্জামান বাবর ছিলেন অন্যতম। ২০০৪ সালে ধরা পড়া ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান মামলায় ৩ অক্টোবর ২০১০ সালে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় শ্যেন অ্যারেস্ট দেখানো হয় বাবরকে। এই মামলায়ও তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। খালেদা জিয়ার সরকারের সময় প্রবল অস্বস্তি তৈরি করেছিল এই ১০ ট্রাক সমপরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি।

দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের আগে থেকেই বিএনপি সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না। এর মূলে ছিল নিরাপত্তা ইস্যু। ভারত তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বেশ চিন্তিত ছিল। ভারতের অভিযোগ ছিল দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে মদদ দিচ্ছে বিএনপি সরকার। এমন অবস্থায় ঐ দশ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়ে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |