বিশ্বের সাতটি প্রভাবশালী দেশের সমন্বয়ে গঠিত জি৭ (G) জোট ইউক্রেন যুদ্ধ না থামালে রাশিয়ার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ মে) কানাডার রকি পর্বতমালায় এই জোটের এক বৈঠকে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
জি৭-এর অর্থমন্ত্রীরা জানিয়েছেন, যদি রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করে একটি যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হয়, তাহলে তারা আরও নিষেধাজ্ঞা দেবে। এই নিষেধাজ্ঞাগুলি হবে এমনভাবে, যাতে রাশিয়ার অর্থনীতি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বলেন, ‘আমরা বিশ্বকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছি যে জি ৭ এর দেশগুলো এক রয়েছে।’
কানাডার আলবার্টার ব্যানফে বৈঠকের সময় জি-৭ জোটের অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা। ছবি: সংগৃহীত
কানাডার আলবার্টার ব্যানফে বৈঠকের সময় জি-৭ জোটের অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা। ছবি: সংগৃহীত
জি৭ জোট আরও জানিয়েছে, রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ না করা পর্যন্ত তাদের অনেক সম্পদ জব্দ করে রাখা হবে। অর্থাৎ, যতক্ষণ রাশিয়া ক্ষতিপূরণ না দিচ্ছে এবং ইউক্রেন থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এই আর্থিক চাপে থাকবে। তবে, জি৭-এর বিবৃতিতে চীনের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। যদিও পশ্চিমা দেশগুলো এর আগে অভিযোগ করেছিলো যে চীন রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করছে।
এছাড়া রাশিয়ার তেল রপ্তানি নিয়েও তারা আলোচনা করেছে। ইউরোপীয় কর্মকর্তারা তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৫০ ডলার করার প্রস্তাব দেন। রাশিয়া বর্তমানে তার তেল ৬০ ডলারের নিচে বিক্রি করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এতে পুরোপুরি একমত হয়নি, তাই বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঘোষণা দিয়েছে যে ১ জুলাই থেকে রাশিয়ান সার আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে। এটা ৬.৫% থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে ১০০% পর্যন্ত বাড়বে, যার ফলে রাশিয়ার সার আমদানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
আপনার মতামত লিখুন :