আশ্রয়ণ প্রকল্পের ফাঁকা ঘরে মাদকের অবাধ বাণিজ্য, অধিকাংশ ঘর বিক্রি বা ভাড়া

মোঃ তাহাকিক হাসান , হিলি (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর, ২০২৫, ০২:৫৬ পিএম

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার পালীবটতলি ও আলীহাট আশ্রয়ণ প্রকল্পের সারি সারি একতলা ঘরগুলো এখন মাদকের আখড়া হয়ে উঠেছে। প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ ও একটি বারান্দা, টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ ঘর ফাঁকা পড়ে আছে। এই সুযোগে দিনের বেলায় অবাধে মাদকের কেনাবেচা ও সেবন চলছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে এই দুটি প্রকল্পে ৪০০ ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ২২০টি সেমিপাকা ও ১৮০টি টিনশেডের। সে সময় ইউপি চেয়ারম্যান ছদরুল হোসেন ও আবু সুফিয়ান সুফলভোগীদের তালিকা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ৩০০টি ঘর ফাঁকা পড়ে আছে। এর মধ্যে অন্তত ২০টি প্রকল্পের ঘর টাকার বিনিময়ে বিক্রি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। যারা এখন থাকছেন, তাদের অধিকাংশেরই নিজের নামে বরাদ্দ নেই।

বুধবার (১২ নভেম্বর) এই অভিযোগ নিয়ে দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু একজন চেয়ারম্যান জেলে ও অন্যজন পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রকল্পের বরাদ্দের ঘরগুলো মাদক বেচাকেনার জন্য ভাড়া দেওয়া হচ্ছে এবং সেখানে নিয়মিত মাদকের আড্ডা বসে। গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের কেনাবেচা চলে।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, এই ঘরগুলোতে কয়েক বছর ধরে মাদক বেচাকেনা চলছে। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যুবকদের যোগসাজশ আছে এবং কয়েকজন প্রভাবশালীও মাদকের আড্ডায় আসেন। একই ঘরে গাঁজা সেবন চলে এবং ঘরগুলো মাদক সেবন ও বিক্রির আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, বরাদ্দ পাওয়া ঘরগুলো ৫০-৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। আবার কেউ কেউ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা মাসিক চুক্তিতে ঘরগুলো ভাড়া দিয়েছেন।

এছাড়া ৩ নম্বর আলিহাট ইউনিয়নের আলিহাট আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারাও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। এখানেও বেশিরভাগ ঘরে তালা ঝুলছে, ঝোপঝাড় ঘিরে ধরেছে ঘরগুলো এবং চুলা ভেঙে গেছে। আলিহাট আশ্রয়ণ প্রকল্পে বরাদ্দ ৮৪টি ঘরের মধ্যে মাত্র ১৫টিতে পরিবার থাকে। বাকি ঘরগুলো কোনো দিন খোলাও হয়নি।

হাকিমপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল হোসেন জানিয়েছেন, ঘরগুলো ২০২২ সালে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সে সময় অর্থ কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন। তিনি অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Link copied!