প্রেমের বিয়ে, ২ মাসের মাথায় নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:০৯ পিএম

প্রেমের টানে ছুটে এসে বিয়ে করে স্বামীর সঙ্গে নতুন জীবনের স্বপ্ন বুনেছিলেন ২০ বছর বয়সী রাফিয়া আক্তার শম্পা। বিয়ের পর বগুড়ার একটি ভাড়া বাসায় দুই মাসের সংসার, মোটামুটি ভালোই চলছিল। কিন্তু হঠাৎই সেই সংসারে নেমে এলো অন্ধকার।

রোববার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়া শহরের কৈপাড়া বকুলতলা এলাকার একটি বাসা থেকে রাফিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যা সন্দেহে তার স্বামীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রাফিয়া কাহালু উপজেলার শামন্তাহার পোড়াপাড়া এলাকার আনারুল ইসলামের মেয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির।

অন্যদিকে, হত্যার অভিযোগে রাফিয়ার স্বামী রিয়াজুল জান্নাত নাফিসকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়নের বাঘবাড়ি এলাকার জাহিদুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রোববার সন্ধ্যায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এতে রাফিয়া গুরুতর আহত হন। কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা রিয়াজুলকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। নির্যাতন ও চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগেও স্বামীকে দায়ী করা হয়।

নিহত রাফিয়ার মা সাবিনা আক্তার বলেন, দুই মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তার মেয়ে বিয়ে করে ওই ভাড়া বাসায় সংসার করছিল। তিনি জানান, সন্ধ্যায় রাফিয়া তাকে ফোন করে বলে “মা বাঁচাও, আমাকে মেরে ফেলছে”। কিন্তু দ্রুত ছুটে এসে দেখেন, মেয়েকে গলায় ফাঁস দিয়ে জানালার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, রিয়াজুল প্রায়ই টাকার জন্য রাফিয়াকে নির্যাতন করত। কয়েক দফা টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন কমেনি। তার দাবি, রাফিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত রিয়াজুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তারা।

রাফিয়ার চাচা ইলান আলী বলেন, ঘটনার প্রায় ২০ মিনিট আগে রাফিয়া তার বাবাকে ফোন করে জানায়, স্বামী তাকে হত্যার চেষ্টা করছে। পরিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাফিয়ার নিথর দেহ দেখতে পায়। পরে এলাকাবাসী রিয়াজুলকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন।

বগুড়া সদর থানার ওসি মো. হাসান বাসির বলেন, এটি হত্যা না আত্মহত্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। স্বামী রিয়াজুলকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Link copied!