বসুন্ধরা আবাসিক থেকে শিক্ষার্থীসহ দুজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে পৃথক ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ দুজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে শিক্ষার্থী মাহমুদা আক্তার জেরিন (২৭) ও গতকাল বৃহস্পতিবার শেখ মো. শাওন (২২) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। 

দুজনই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে তাদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ভাটারা থানার ওসি ইমাউল হক সমকালকে বলেন, জেরিন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (এআইইউবি) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কের সি-ব্লকের একটি বাসায় থাকতেন। বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর ঘরের দরজা বন্ধ দেখে পাশের ঘরে থাকা শিক্ষার্থীরা ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে রাত পৌনে ১টার দিকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল তাঁর মরদেহ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়। 

নিহতের মামা মো. মহসিন জানান, জেরিনের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম খোরশেদ আলী। 

পুলিশ সূত্র জানায়, জেরিন বিভিন্ন বিষয়ে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর সহপাঠীরা। এর জের ধরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

এদিকে, গতকাল বিকেলে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই-ব্লকের ১০ নম্বর সড়কের ৭৪৪ নম্বর বাসা থেকে শেখ মো. শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, মামা শামীম কাউসারের বাসায় থাকতেন তিনি। গতকাল ভোররাতে সাহ্‌রি খাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে আর কারও দেখা হয়নি। বিকেল সোয়া ৩টায় মামা তাঁকে ডেকে কোনো সাড়া পাননি। পরে দরজায় ধাক্কা দিলে তা খুলে যায়। তখন ভেতরে গিয়ে দেখেন, ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে শাওনের মৃতদেহ। ওই অবস্থা থেকে ভাগনেকে নামিয়ে আনেন তিনি। 

মৃতের বাবার নাম শেখ মো. মিনহাজ, মা শিল্পী বেগম। তাদের গ্রামের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জের কাশিমপুরে। দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে বলে জানান ওসি ইমাউল হক। 

Link copied!