নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তি-চিন্তায় এগিয়ে যেতে হবে: ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী

মোঃ আল শাহারিয়া সুইট , ডিআইইউ সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০৫:৫৮ পিএম

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন কেন্দ্রে অর্থনীতি, কম্পিউটার বিজ্ঞান, পুরকৌশল ও আইন বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জাহিদুল ইসলাম, বিওটির সদস্য অ্যাডভোকেট শাহেদ কামাল পাটোয়ারী, ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ. টি. এম. মাহবুবুর রহমান সরকার, প্রক্টর ও প্রভোস্ট প্রফেসর ড. সাজ্জাদ হোসেন, আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ আল মঞ্জুর হোসেন, ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের ডিন আজমীর হোসেন এবং ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ শাহ আলম চৌধুরী। আয়োজনে প্রায় ১৫০ জন নতুন শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন অনুষদের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকবৃন্দ অংশ নেন।

বক্তৃতায় ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী নবীনদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশকে ‘জ্ঞান-ব্রহ্মাণ্ডে পদার্পণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, কলেজ পর্যায়ের শিক্ষা শেষ, এখন প্রকৃত শেখার পালা শুরু। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে ১৯৯৪ সালে তাঁর পিতা প্রফেসর ড. মফিজুল ইসলাম পাটোয়ারী এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন; শিক্ষক দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এমন কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ডিআইইউ একটি উল্লেখযোগ্য নাম। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার ছোট্ট ঠিকানাটি আজ স্থায়ী ক্যাম্পাস, নিজস্ব মাঠ, হল, ও বিস্তৃত একাডেমিক টিম নিয়ে প্রসারিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে এক শক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী তরুণদের উদাহরণ হিসেবে স্টিভ জবস ও বিল গেটসের জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরে বলেন, ব্যর্থতাও যখন সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয় তখন সেটি সাফল্যের সোপান হয়ে দাঁড়ায়। তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘স্টিভ জবস প্রথম বর্ষে ভালো ফল না করতে পেরে এক বছর ক্লাসরুমের বাইরে থেকে ক্যালিগ্রাফি শিখেছিলেন; পরে সেটিই তার জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছিল।’’ একইভাবে তিনি আলোকপাত করেন কিভাবে অধ্যয়ন-বহির্ভূত অভিজ্ঞতাও মানুষের দক্ষতা গড়ে তোলে এবং ছাত্রদের ক্লাব ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

বক্তব্যের একাংশে তিনি সমাজসেবার গুরুত্বও তুলে ধরেন এবং এ. পি. জে. আব্দুল কালামের কথার উদাহরণ দিয়ে নবীনদের নির্দেশ দেন গাছ লাগানো এবং হাসপাতালের বৃদ্ধদের সহায়তা করার মতো ছোট কাজই বড় সামাজিক পরিবর্তন আনে। তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের শিক্ষাকে ‘পিতামাতার বা নিজের কষ্টে অর্জিত মূল্যবান সম্পদ’ হিসেবে ধারণ করার পরামর্শ দেন এবং প্রত্যাশা করেন, তারা সর্বোচ্চভাবে তা গ্রহণ করবে। বক্তব্যের শেষভাগে তিনি নম্রতা ও ভদ্রতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘‘তুমি যত শিক্ষা অর্জন করবে, ততই ভদ্র ও নম্র হবে এটাই শিক্ষার প্রথম ও মৌলিক অর্জন।’’

ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জাহিদুল ইসলাম অনুষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবোধ এবং পরিচালনাগত কাঠামো সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় আইন ও বিধি-নিয়মের গুরুত্ব অপরিহার্য এবং ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারী সবাইকে শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। তিনি বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠাতার জীবনী এবং তাঁর লেখা পড়ার জন্য লাইব্রেরি ব্যবহারে উৎসাহ দেন, যাতে নবীনরা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও উদ্দেশ্য বুঝে এগোতে পারে।

প্রক্টর প্রফেসর ড. সাজ্জাদ হোসেন নবীনদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘এমন বহু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও তোমরা ডিআইইউ বেছে নিয়েছো এটি সঠিক সিদ্ধান্ত। এখানে প্রতিটি ক্ষেত্রে কাঠামোগত কিছু সুবিধা আছে; শৃঙ্খলা ও নিয়ম মেনে পড়াশোনা করলে তুমি জীবনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাবে।’’

অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যায়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় সজ্জিত ছিল। নবীনরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সূচনায় সহপাঠী ও শিক্ষকদের সাথে দিনের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যরা নবীনদের জন্য শুভকামনা জানান এবং তাদের অধ্যয়নকালকে সার্থক করে তোলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

নতুন শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠান শেষে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস শোনায় এবং চেয়ারম্যানের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে তারা উদ্বুদ্ধ হয়েছেন; অনেকেই বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়ক পরিবেশ থাকলে নিজ লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা হবে বলে তাদের আশাবাদ বেড়েছে।

Link copied!