চার দিন ধরে পড়ে আছে পথে, কে নেবে তার দায়িত্ব

ময়মনসিংহ অফিস , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:০২ পিএম

মো. আব্দুল মান্নান :  নির্বাচনের সময় গরিবের বন্ধু, নিঃস্বার্থ সমাজকর্মী, জনদরদী বহু ভাইকে আমরা দেখতে পাই। মাইকে তাদের এসব গুণ তুলে ধরা হয়।  আমি সেই রকম একজন মানুষকে খুঁজছিলাম। চার দিন ধরে আমাদের ময়মনসিংহের ফুলপুর গোল চত্বর এলাকায় শেরপুর রোডে পড়ে আছে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা মানুষ। রাতদিন মাটিতে শুয়ে বসে থাকে। ঠিকমত খাওয়া দাওয়া নেই, গোসল নেই। হাত-পা ধুয় না। শরীর থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

ঢাকা-শেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মাঝখানে গোল চত্বরের যে জায়গায় ৪ দিন আগে এসে বসছিল এখনো সেখানেই আছে। পেশাব-পায়খানা কোথায় করে বলতে পারি না। যে  জায়গাটাতে সে থাকছে এটা একটা ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা। ঘুমের ঘোরে গড়িয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে যে কোন সময় চলতি বাসের তলে পিষ্ট হয়ে নিষ্পেষিত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রথম দিন সাংবাদিক নাজমুল হাসান রাজন তাকে কিছু সেবা দিয়েছেন। আমরা দেখেছি, তিনি খাবার খাওয়ায়েছেন।

আরও হয়তো কেউ কেউ তাকে এভাবে টাকা পয়সা বা খাবার দিয়ে থাকতে পারেন, সব দেখিনি। তবে আমিও সাধ্য অনুযায়ী সামান্য কিছু দিয়েছি কিন্তু অনুমান করলাম এতে তার মূল সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। আমার মনে হয়, কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে সে বঞ্চিত রয়েছে। তার জন্য এ মূহুর্তে যা করা প্রয়োজন, তা কিন্তু আমরা এখনো কেউ করতে পারছি না। আমার মনে হয়, তার শরীর থেকে নোংরা কাপড় চোপড় খুলে ভালো কাপড় পরানো উচিত। তাকে শীতবস্ত্র দেওয়া উচিত।  এদিক দিয়ে গেলে দেখা যায়, প্রায় সময় সে মাথায় চুলকাচ্ছে। মাথাটা ওর জংলার মত নোংরা হয়ে গেছে। চুলগুলো কেটে দিলে ওর স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবে বলে মনে হয়। তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে নার্স দিয়ে প্রয়োজনীয় সেবার ব্যবস্থা করলে, ভালো খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা করলে, একটু ভালো বিছানায় শুইতে দিলে, আরাম পেলে হয়তোবা চেইঞ্জ হতে পারে তার অবস্থার। 

এ ব্যাপারে সহায়তা করার জন্য আমাদের ফুলপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শিহাব উদ্দিন খানের স্মরণাপন্ন হলে তিনি বলেন, ‌সে ম‌নে হয় মান‌সিক ভারসাম‌্যহীন। তার জন্য সরাস‌রি কিছু করা সম্ভব হ‌বে না।  ময়মন‌সিংহ মে‌ডিকে‌লের মান‌সিক স্বাস্থ‌্য ইউনি‌টে ভ‌র্তি করা‌লে সেখা‌নে আমা‌দের অ‌ফিস আছে।

তা‌দের মাধ‌্যমে চি‌কিৎসা সহ‌যো‌গিতা দেয়া যা‌বে। হাসপাতা‌লে ভ‌র্তির দা‌য়িত্ব মূলত পুলি‌শের। সুস্থ‌্য হ‌লে সরকা‌রি আশ্রয় কে‌ন্দ্রে পুনর্বাসন করা যে‌তে পা‌রে। পরে এ বিষয়ে ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল হাদি বলেন, কোন স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে তাকে হাসপাতালে পাঠাতে পারলে ভালো হতো। বললাম যে, সে রকম কাউকে দেখা যাচ্ছে না। পরে তিনি বলেন, আচ্ছা, ঠিক আছে। আমি পুলিশ পাঠাবো। 

Advertisement

Link copied!