ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এলাকায় যাচ্ছেন কম, নেতা–কর্মীদের অসন্তোষ

এলাকায় খুব কম যান এ অভিযোগ আগে থেকেই ছিল দলীয় নেতা- কর্মীদের। দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়ার পর যখন ময়মনসিংহের অন্যান্য আসনের প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদিন গণসংযোগ করছেন, তখনও ময়মনসিংহ-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এম ইকবাল হোসেনকে তেমন দেখা যাচ্ছে না এমনটাই জানিয়েছেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা- কর্মীরা।

ইকবাল হোসেন স্থায়ীভাবে রাজধানী ঢাকায় বসবাস করেন বলে জানা যায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৮ সালেও তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। দলীয় নেতাুকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা জানান, ইকবালের গ্রামের বাড়ি গৌরীপুর উপজেলার সিধলা ইউনিয়নে।

তিনি কখনোই স্থায়ীভাবে গ্রামে থাকেননি। রাজনীতির সুবাদে মাঝে মাঝে গ্রামে গেলেও ২০১৮ সালের নির্বাচনের দিন দুপুরে তিনি গৌরীপুর ছেড়ে চলে যান। এরপর কয়েক বছর আর এলাকায় যাননি। গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুুএকবার এলাকায় যান বলে জানান তারা। এলাকায় কম যাওয়ার কারণে স্থানীয় নেতাুকর্মীদের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় তিনি মনোনয়ন পাওয়ায় অনেক নেতাুকর্মী হতাশা প্রকাশ করেছেন।

গত ৩ নভেম্বর বিএনপি ২৩৭ আসনে মনোনয়ন প্রকাশ করলে গৌরীপুরে মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেন সদ্য বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণের সমর্থকেরা। এরপর টানা কয়েক দিন বিক্ষোভ চলে। মনোনয়ন পাওয়ার পর ৯ নভেম্বর প্রথম গৌরীপুর যান ইকবাল হোসেন। ওই দিন হিরণপন্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে।

সংঘর্ষের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ছাত্রদল কর্মী আবিদ। এ ঘটনায় হিরণসহ ২৪ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। নেতা- কর্মীরা জানান, ৩ নভেম্বর মনোনয়ন প্রকাশের পর সারা দেশের প্রার্থীরা যখন নির্বাচনী এলাকায় প্রচারুপ্রচারণা, গণসংযোগ ও মিটিং- মিছিল নিয়ে ব্যস্ত, তখন ইকবাল হোসেন মাত্র তিন দিন গৌরীপুর গিয়েছেন। ৯ নভেম্বরের পর ১৯ নভেম্বর তিনি শ্যামগঞ্জে নিহত ছাত্রদল নেতা আবিদের স্মরণসভায় অংশ নেন। এরপর  শনিবার তৃতীয়বারের মতো তিনি গৌরীপুর যান একটি বেসরকারি টেলিভিশনের রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে।

এলাকার নেতাুকর্মীরা আরও জানান, প্রার্থী না থাকলেও ধানের শীষের পক্ষে তারা নিয়মিত কর্মসূচি পালন করছেন। তবে এসব কর্মসূচিতে প্রার্থী উপস্থিত না থাকায় অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অনেকে দলীয় আনুগত্যবশত ইকবালের পক্ষে মাঠে নামতে আগ্রহী হলেও প্রার্থী এলাকায় না থাকার কারণে সেভাবে নামতে পারছেন না।

 

গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শাহজাহান সিরাজ বলেন, “বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এলাকায় খুব কম আসেন। মনোনয়ন পাওয়ার পরও খুব একটা আসছেন না। এটি ভোটের মাঠে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হাফেজ আজিজুল হক বলেন, “উনার (ইকবাল হোসেন) স্ত্রী অসুস্থ থাকায় তিনি নিয়মিত নির্বাচনী এলাকায় থাকতে পারছেন না। তবে প্রার্থী ও ধানের শীষের পক্ষ থেকে আমরা নিয়মিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। এ বিষয়ে কথা বলতে ইকবাল হোসেনকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

 

Advertisement

Link copied!