‘আজাদি না গোলামি— ফয়সালা ভোটেই’

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:০৪ এএম

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদীয় প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান গতকাল সোমবার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁও থেকে মিরপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী গণমিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। গণমিছিলের শুরুতে জামায়াত আমির বলেন, কোনো ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য নয়; বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই এই রাজনৈতিক লড়াই। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নির্ধারণ করবে দেশ স্বাধীনতার পথে এগোবে, নাকি আবারও পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হবে। আজাদি না গোলামি-১২ ফেব্রুয়ারির ভোটেই চূড়ান্ত ফয়সালা হবে।

তিনি বলেন, এই ভোট শুধু সরকার গঠনের নয়; এই ভোটের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মামলাবাজির রাজনীতি চলবে কি না, আর দেশের মায়েরা নিরাপত্তা ও মর্যাদা পাবেন কি না।

বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের তালতলা এলাকা থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় পুরো আগারগাঁও থেকে তালতলা হয়ে মিরপুর এলাকা পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। বিভিন্ন অলিগলিসহ মূল সড়ক ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে।

গণমিছিলে দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখাসহ বিভিন্ন ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

গতকাল সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর ঈদগাহে ঢাকা-১৩ আসনে জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতাকালে জামায়াত আমির বিজয় না পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে পাহারা বসাতে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, একটি পক্ষ ও পরিবার জয়ের জন্য পাগল হয়ে গেছে। নির্বাচনে হারের ভয়ে ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে। নির্বাচনে কারচুপি হলে ক্ষমা করা হবে না বলে প্রশাসন-পুলিশকে হুঁশিয়ার করেছেন জামায়াত আমির।

জামায়াত আমির প্রতিশ্রুতি দেন, ১১ দলীয় জোট নির্বাচনে জয়ী হলে মন্ত্রী হবেন মামুনুল হক। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনিও নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, কারচুপি হলে ছাড় দেওয়া হবে। জামায়াত আমির জনসভায় সমাবেগতদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, এখন থেকেই ভোট পাহারা শুরু করতে হবে। জালিয়াত, ভোটচোর, অবৈধ ইঞ্জিনিয়াদের জনগণের কপাল নিয়ে খেলতে চাইলে, রুখে দিতে হবে। বিজয়ের মালা গলায় পরিয়ে দিয়ে তারপর আপনারা ঘরে ফিরবেন। বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা ক্ষমতার জন্য পাগল হয়ে গেছে জনগণ তাদেরকে অতীতে দেখেছে। বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ অবশ্যই তাদেরকে সমর্থন করবে না। তারা জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হবেন। যারা জনগণের পক্ষে, জুলাই আকাঙ্ক্ষার পক্ষে আছে, তারাই বিজয়ী হবেন।

জামায়াত আমির বলেছেন, একটি পক্ষ হেরে যাওয়ার ভয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে। হতাশা থেকে চোরাই পথে নির্বাচনকে হাইজ্যাক করার চিন্তা করছে। গুন্ডাদের লেলিয়ে দিচ্ছে। অস্ত্রের ভান্ডার গড়ে তোলা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র দখল করে মানুষের ভোট কেড়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ দিয়ে জামায়াত আমির বলেছেন, তরুণরা ১২ ফেব্রুয়ারি একই রায় দেবে। কেউ যদি সেই দৃশ্য দেখে এখনই ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে চোরাইপথে পা বাড়ান, তাহলে জাতি ক্ষমা করবেন না। তাদেরকে সেদিকে চলতে দেবেন না।

আমলা ও সচিবদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘কিছু আমলা, সচিব, অসত্ লোক এখনো দলবাজি করছেন। বিভিন্ন প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। প্রার্থী জিতবে বা পরাজিত হবে, তা নির্ধারিত হবে জনগণের ভোটে। মনে রাখবেন ক্ষমা বারবার পাবেন না। অপরাধ করে অতীতে ক্ষমা পেয়েছেন, আগামীতে আর ক্ষমা করা হবে না।’ আওয়ামী লীগের শাসনামলের বিতর্কিত নির্বাচন করে দেশকে ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেওয়ার দুঃসাহস না দেখাতে সতর্ক করেছেন জামায়াত আমির। কেউ দুঃসাহস করলে পরিণতি ভালো হবে না হুঁশিয়ার করে তিনি বলেছেন, যদি আবার ফ্যাসিবাদের দিকে দেশকে ঠেলে দেওয়ার কেউ দুঃসাহস করেন, জুলাইতে যেমন ফ্যাসিবাদে রুখে দেওয়া হয়েছে, আগামীতেও রুখে দেওয়া হবে।

নির্বাচনে কারচুপি হলে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে ১১ দলীয় জোট নেতা বলেন, জুলাই যোদ্ধারা ঘুমিয়ে নেই। সমস্ত অপকর্ম ইনশাআল্লাহ প্রতিহত করে দেব। জনগণের ভোট আবার কেউ ছিনতাই করবেন, এই দুঃসাহস দেখাবেন না। ১১ দল জুলাই আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার, সনদ বাস্তবায়ন এক হয়েছে দাবি করে শফিকুর রহমান বলেছেন, এই ঐক্য চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ এবং সব ধরনের অপরাধীর বিরুদ্ধে। জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, বিজয় হবেই ইনশাআল্লাহ।

ঢাকা-১৩ আসনে মামুনুল হকের ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট চেয়ে শফিকুর রহমান বলেছেন, রিকশা জনগণের প্রতীক। তরুণ প্রজন্মের প্রতীক। নারী সমাজের প্রতীক।  আধিপত্যবাদবিরোধী জনগণের প্রতীক। মামুনুল জয়ী হলে দেশ ও ঢাকা-১৩ আসন মর্যাদাবান মন্ত্রী হবেন। যিনি সংসদে ইনসাফের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেবেন। গতকাল সোমবার ঢাকা-১৫ আসনে নিজের জন্য ভোট চেয়ে গণমিছিল করেন জামায়াত আমির। হাজার হাজার নেতাকর্মীর মিছিল থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাওয়া হয়।

Link copied!