যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিজেদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হারিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে ইরান। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক হামলা করে যাচ্ছে দেশটি। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার (২ মার্চ) ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় ছাড়াও ইসরায়েলি বিমান বাহিনী প্রধানের সদর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় ও বিমানবাহিনীর প্রধানের কার্যালয়ে চালানো এ হামলায় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি খাইবার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে আইআরজিসি।
প্রসঙ্গত, পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের ওপর একযোগে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলায় মারা যান ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ৪০ দিনের গণশোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে দেশটিতে।
এদিকে খামেনির মৃত্যু হলেও ইরানে নিজের মিশন শেষ হয়নি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে সম্পূর্ণ লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এ যৌথ হামলা চলতে থাকবে বলেও বার্তা দিয়েছেন তিনি।
সে ধারাবাহিকতায় এখনও ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল, আর এসব হামলায় কমপক্ষে ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সেই সঙ্গে ১৩১টি ইরানি কাউন্টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে, একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েনি ইরান। সমানতালে জবাব দিয়ে যাচ্ছে তারাও। সর্বশক্তি দিয়ে খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে ঘোষণা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার (১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য এখন একটি বৈধ অধিকার এবং পবিত্র দায়িত্ব। এই অপরাধের জবাব দিতে ইরান তার কাছে থাকা সব ধরণের শক্তি ও সামর্থ্য নিয়োগ করবে।
আপনার মতামত লিখুন :