ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০২ মার্চ, ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের বলি হয়েছেন বাহরাইনে কর্মরত এক প্রবাসী বাংলাদেশি। সোমবার (২ মার্চ) স্থানীয় সময় ভোরে বাহরাইনের রাজধানী মানামার সন্নিকটে একটি সামুদ্রিক এলাকায় ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি জাহাজের ওপর পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। 

বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এই হামলায় মোহাম্মদ তারেক (৪৮) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং আরও দুইজন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। গত শনিবার থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান যে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে, তারই ধারাবাহিকতায় এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।

নিহত মোহাম্মদ তারেকের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নে। তিনি দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন এবং সর্বশেষ একটি ড্রাইডক শিপইয়ার্ডে কর্মরত থাকাকালীন এই হামলার শিকার হন। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি নিয়মিত দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে আসছিলেন। 

তারেকের ফুফাতো ভাই ও চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ইতি টেনে নিথর দেহে তার এভাবে ফেরার খবরে পরিবার ও সন্দ্বীপের আজিমপুর এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, রাজধানী মানামার কাছে সামুদ্রিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে যে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছিল, তা সফলভাবে নেভানো হয়েছে। তবে ধ্বংসাবশেষটি সরাসরি একটি জাহাজের ওপর আছড়ে পড়ায় সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা হতাহত হন। শনিবার ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। 

ইরান পাল্টা জবাবে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, যার জাঁতাকলে পড়ে প্রাণ হারাতে হচ্ছে সাধারণ প্রবাসী শ্রমিকদের।

বর্তমানে নিহতের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাস আহত অন্য দুই বাংলাদেশির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় এখনও চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করায় প্রবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস। 

সন্দ্বীপের আজিমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা তারেকের স্বজনরা এখন কেবল প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। রাষ্ট্রদূতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বাহরাইনে অবস্থানরত অন্যান্য বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

Link copied!