রাজধানীর মিরপুর রূপনগর আবাসিক এলাকায় জাল ওয়ারিশ সনদে জমি রেজিস্ট্রির মাধ্যমে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করে সম্পত্তি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগে ভুক্তভোগী মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো স্মারকলিপি বা সমাধানমূলক সিদ্ধান্ত দেয়নি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ— এমন অভিযোগ উঠেছে। বিগত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ একটি বৈঠকের আয়োজন করে, যেখানে দুই পক্ষের দাবির বিপরীতে তাদের প্রমাণাদি যাচাই-বাছাই করা হয়। বিবাদিপক্ষের তথ্য ও প্রমাণাদি জাল জালিয়াতি করে তৈরি করা প্রমাণ হওয়ায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মো. বশির গাজী (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা-১) তাদের রেজিস্ট্রি বাতিল বলে মৌখিকভাবে জানালেও এর প্রেক্ষিতে কোনো ধরনের স্মারকলিপি প্রদান করা হয়নি। বিষয়টি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় আছে, যা রাজনৈতিক প্রভাব ও অনৈতিক লেনদেনের ইঙ্গিত বহন করে। প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সরকারি দপ্তরের নাগরিক সেবা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত প্রচলিত প্রশাসনিক রীতিমালা অনুযায়ী—
৭ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগ গ্রহণের স্বীকৃতি (Acknowledgement) প্রদান, ১৫–৩০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত/পরিদর্শন সম্পন্ন করে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত স্মারকলিপি বা সিদ্ধান্ত প্রদান করার বিধান রয়েছে।
বিশেষ জটিল বা আইনি বিষয়ে এই সময়সীমা সর্বোচ্চ ৪৫ কর্মদিবস পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে— তবে সে ক্ষেত্রে লিখিতভাবে কারণ জানানো বাধ্যতামূলক।
ভুক্তভোগী মো. ইয়াছিন বেগের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো স্মারকলিপি বা কার্যকর সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
৩০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট–এর হাইকোর্ট বিভাগ সিএমপি নং ৩৪২/২৫ মামলায় ৮ সপ্তাহের স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। অভিযোগ রয়েছে, আদেশ জারির পরও বাড়ি ভাঙচুর ও দখলচেষ্টা অব্যাহত থাকে। ভুক্তভোগীর দাবি, থানাকে অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ইয়াছিন বেগ অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসকেভেটর দিয়ে জমি খনন করে নতুন নির্মাণকাজ শুরুর চেষ্টা করছে। এতে আদালতের আদেশ সরাসরি লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করা আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য হতে পারে। একই সঙ্গে, মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্মারকলিপি না দেওয়া প্রশাসনিক জবাবদিহিতার ঘাটতির উদাহরণ।
ভুক্তভোগী ইয়াছিন বেগের দাবি—
হাইকোর্টের আদেশ অবিলম্বে বাস্তবায়ন, দখলচেষ্টা ও অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত স্মারকলিপি ও সমাধান।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি হবে না বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
আপনার মতামত লিখুন :