দুইমাস ছেলেকে দেখিনি, অবশেষে ফিরল কফিনবন্দি হয়ে

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৭ মার্চ, ২০২৬, ০২:০৮ এএম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহতদের দাফন ঘিরে তেহরানের বেহেশতে জাহরা কবরস্থানে চলছে শোকের মাতম। নতুন নতুন কবর খোঁড়া হচ্ছে, আর স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে সেখানকার পরিবেশ। নিহতদের একজন তরুণের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তার মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছেন, ‘দুই মাস ছেলেকে দেখিনি, অবশেষে ফিরল কফিনবন্দি হয়ে।’

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের বেহেশতে জাহরা কবরস্থানে এতো বেশি কবর খোঁড়া হচ্ছে যে নিহতের দাফনের জায়গা সংকট পড়ছে।

ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

২৩ বছর বয়সী এরফান শামেই ছিলেন নিহতদের একজন। তিনি পশ্চিম ইরানের কেরমানশাহ এলাকায় একটি সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে বিস্ফোরণে নিহত হন। কয়েক দিনের মধ্যেই তার ছুটিতে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। এমনকি শিগগিরই তার বিয়েরও প্রস্তুতি চলছিল।

কবরের পাশে দাঁড়িয়ে এরফানের মা মারজিয়া রেজাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, দুই মাস ধরে ছেলেকে দেখেননি তিনি। শেষবার ফোনে কথা হয়েছিল, তখন বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়েছিল তাদের।

কবরস্থানের একটি অংশে নিহতদের ছবি ও ইরানের পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে। সেখানে স্বজনেরা জড়ো হয়ে কেউ নীরবে কাঁদছেন, আবার কেউ বুক চাপড়ে শোক প্রকাশ করছেন।

একই স্থানে বাসিজ বাহিনীর সদস্যসহ আরও কয়েকজন নিহত ব্যক্তিকেও দাফন করা হয়েছে। লাউডস্পিকারে শোকসংগীত বাজছিল, আর কবরের ওপর ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল ফুলের পাপড়ি।

৫৮ বছর বয়সী ফাতিমা দারবেচি বলেন, যুদ্ধের শুরুর দিকে তার ৪৪ বছর বয়সী ভাই নিহত হন। বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি গাড়িতে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করতে গিয়ে আরেকটি বিস্ফোরণে শার্পনেলের আঘাতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।

স্বজন হারানোর বেদনার পাশাপাশি অনেকের মধ্যে ক্ষোভও দেখা গেছে। নিহত ২৫ বছর বয়সী ইহসান জাঙ্গরাভির মা বলেন, ‘আমাদের হৃদয় পুড়িয়ে দিলে আমরা থেমে যাব না, আমরা নতও হব না।’ 

সূত্র: রয়টার্স

Link copied!