ভৈরবে ময়লার ভাগাড়ের বর্জ্য খাইয়ে গরু পালন

নিজস্ব প্রতিবেদক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৩ মার্চ, ২০২৬, ১১:২৮ পিএম

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পশু খাদ্যের খরচ পোষাতে ময়লার ভাগাড়ের বর্জ্য খাইয়ে গরু পালন করছেন এক শ্রেণির পশু মালিকরা। তাই ময়লার ভাগাড়কে বেছে নিয়েছে কিছু খামারি ও গরু পালনকারীরা। প্রতিদিন বিভিন্ন বাসা বাড়ি আর হোটেল রেস্তোরাঁর থেকে পরিচ্ছন্নকর্মীদের সংগ্রহ করা ময়লাগুলো ফেলা হয় শহরের কয়েকটি ময়লার ভাগাড়ে। আর এসব ময়লা আবর্জনা খেয়েই জীবন ধারণ করছে ওইসব গবাদি পশুগুলো। বর্জ্য খেয়ে জীবন ধারণকারী গবাদি পশুর দুধ ও মাংস থেকে মানবদেহে নানান রোগের সৃষ্টি হতে পারে বললেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা বলেন, ময়লা আবর্জনার বিষাক্ত খাবার খাওয়ায় অনেক সময় গবাদি পশুরও মৃত্যু হতে পারে বলে খামারিদের সতর্ক হবার আহ্বান জানান তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায় যেখানেই বর্জ্য সেখানেই হাজির হয় গবাদি পশুর পাল। সকাল হতেই চোখে পড়ে শহরের বিভিন্ন সড়কে সারিবদ্ধভাবে হেঁটে চলেছে খণ্ড খণ্ড গরুর পাল। পৌরসভার বিভিন্ন বাসাবাড়ী ও হোটেল রেস্তোরাঁর বর্জ্য এনে ফেলা হয় শহরের নাটালের মোড়, মাল গুদাম এবং স্টেশন রোডের পলাশ মোড়ে। গবাদি পশুগুলো নাটারের মোড় থেকে পলাশের মোড়, সেখান থেকে মাল গুদামে বর্জ্যাগারের নোংরা ময়লা আবর্জনা খেতে। সন্ধ্যার আগে যার যার রাখাল এসে নিয়ে যায় এই সকল গবাদি পশু গুলোকে তাদের খামারে। এই সকল গবাদিপশুর মালিকের মধ্যে রয়েছে খামারি এবং ছোট খাটো গবাদি পশু লালনকারী। উল্লিখিত ভাগাড়গুলোতে প্রতিদিন অর্ধশত গবাদিপশু প্লাস্টিকের বর্জ্যসহ নোংরা পঁচাবাশী খাবার খেতে দেখা যায়। এসব গাভি থেকে উৎপাদিত দুধ শহরের বেশ কয়েকটি নামিদামি রেস্টুরেন্টসহ খোলা বাজারেও বিক্রি করা হয়। এছাড়াও প্রতি বছর এই সকল রোগাক্রান্ত ষাঁড় গুলো বিক্রি করা হয় কোরবানির হাটেও। এসব গরুর মালিকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি কামনা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম মিয়া বলেন, এখানে প্রতিদিনই দেখতে পাই সকাল হতেই অনেক গরু এই ময়লার ভাগাড়ে এসে ময়লা আবর্জনা খাচ্ছে। এসব ময়লা খেয়ে অনেক সময় গরু অসুস্থ হয়ে মারাও যাচ্ছে। গরুর মালিকদের উচিত হবে গরুগুলোকে স্বাভাবিক খাবার খাওয়ানো। তাহলে গোরুগুলো রোগমুক্ত থাকবে। আর পৌর প্রশাসনেরও উচিত হবে এদিকে নজর দেওয়া।

মজনু মিয়া বলেন, এ সকল গরু প্রতিদিন ময়লার ভাগাড় থেকে বিষাক্ত জিনিস খাচ্ছে। এ গরুর দুধ আর মাংস খেলে মানুষও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়বে। 

জনৈক নারী বলেন, আমি প্রতিদিন দেখছি এখানে এসে গোরুগুলো ময়লা আবর্জনা খাচ্ছে। সারাদিন এভাবে ময়লা আবর্জনা খেয়ে গরুগুলো জীবন ধারণ করায় লাভবান হচ্ছে গরুর মালিকরা। আমরা ঐসকল গরুর দুধ মাংস খেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছি। 

নর্থ সাউথ স্কুলের পরিচালক স্বপন আহমেদ বলেন, প্রতিদিন বিশ থেকে ত্রিটির মতো গরু সকাল হলেই চলে আসে এ ভাগাড়ে। সারাদিন বর্জ্যই খেতে থাকে যা গরুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এসব গরুর দুধ খাওয়াও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জোর দাবি করছি, গরুগুলোকে যাতে করে ভাগাড়ের ময়লা আবর্জনা খেতে না পারে বিষয়টি প্রশাসন দেখবেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কিশোর কুমার ধর বলেন, পৌরসভার বর্জ্য খেয়ে জিবন ধারণকারী গবাদি পশুর শরীরে ময়লা আবর্জনা থেকে নানা ধরনের জীবাণু পশুর শরীরে প্রবেশ করে। এই সকল রোগাক্রান্ত পশুর দুধ কিংবা মাংস খাওয়ার মধ্যে দিয়ে মানব শরীরে প্রবেশ করে জটিল রোগের সৃষ্টি হতে পারে। স্কিন ডিজিজ, মাক্সকাউ সহ নানা ধরনের মারাত্মক রোগের সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য নাকে মুখে ঘা হতে পারে। 

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম বলেন, বর্জ্য খাওয়ার কারণেই গরুর শরীরে মাইক্রোপ্লাষ্টিক সহ বর্জ্যে থাকা নানা ধরনের রোগ জীবাণু এসব পশুর শরীরে প্রবেশ করে থাকে। এই সকল রোগাক্রান্ত পশুর দুধ ও মাংস খাওয়ার মাধ্যমেই তা মানব দেহে প্রবেশ করে। এই সব জীবাণু মানব দেহের চামড়ার নিচে বাসা বাধে, যা এক সময় প্রাণ গাতি হয়ে উঠতে পারে। শিশুরা এই সকল গাভির দুধ খেলে তাদের নাকে মুখে দেখা দেয় এক ধরনের চর্ম রোগ। গবাদি পশুর মাঝে দেখা দেয় (লাম্পিং স্কিন ডিজিজ মাক্সকাউ) সহ, নানা ধরনের মারাত্মক ক্ষতিকারক রোগ। গবাদি পশুকে ঘাস আর ভূষিসহ প্রচলিত খাবার খাওয়ানো হলে গবাদি পশুগুলোর কোনো মৃত্যু ঝুঁকি থাকবে না।

Advertisement

Link copied!