ঈদযাত্রায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভোগান্তির আশঙ্কা

বিশেষ প্রতিনিধি , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১০ মার্চ, ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

আসন্ন ঈদুল ফিতরে টানা সাত দিনের ছুটি থাকায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করার প্রত্যাশা সরকারের। তবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে চলমান উন্নয়নকাজ, সড়ক দখল, অবৈধ যানবাহন স্ট্যান্ড, মহাসড়কের পাশে বাজার এবং টোলপ্লাজায় ধীরগতির কারণে এবার ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ঈদের আগের দুই দিনে যানবাহনের চাপ বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা

সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা, যাত্রী ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজীপুরের অন্তত আটটি স্থানে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের ছয়টি এবং ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুটি পয়েন্ট রয়েছে।

ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে চান্দনা চৌরাস্তা হয়ে ময়মনসিংহসহ পাঁচটি জেলার যানবাহন চলাচল করে। একইভাবে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক হয়ে কালিয়াকৈর দিয়ে উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। স্বাভাবিক সময়েই অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে মাঝেমধ্যে এসব সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। ঈদের সময় যানবাহনের সংখ্যা আরও বেড়ে গেলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়তে পারে।

মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাসমান বাজার, ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল, অবৈধ স্থাপনা, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এবং যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এসব কারণে ঈদযাত্রায় কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত ভোগান্তিতে পড়তে পারেন যাত্রীরা।

ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধ দখলের কারণে অনেক জায়গায় সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলো ছুটি হলে হঠাৎ করেই যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়, যা যানজটের ঝুঁকি আরও বাড়ায়।

তবে মহানগর ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক রাখতে তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং যানজট এড়াতে বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

যাত্রী ও যানবাহনচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী স্টেশন রোড, কলেজ গেট, বোর্ড বাজার, চান্দনা চৌরাস্তা, সদর উপজেলার ভবানীপুর, বাঘের বাজার, শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, মাওনা চৌরাস্তা, এমসি বাজার, নয়নপুর ও জৈনাবাজারে যানজটের শঙ্কা আছে। এ ছাড়া চান্দনা চৌরাস্তার ফ্লাইওভার খুলে না দেওয়ায় এবারও চান্দনা চৌরাস্তায় ভোগান্তি সৃষ্টি হতে পারে। ইতিমধ্যে যানজটের এসব স্থান চিহ্নিত করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাগুলো।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার শফির উদ্দিন বলেন, ঈদযাত্রায় ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়। আগের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে এবং যাত্রীরা যানজটমুক্তভাবে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম আশরাফুল আলম জানান, ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা ও ভোগড়া পেয়ারাবাগান এলাকায় সাধারণত দীর্ঘ যানজট হয়। তবে ঈদের আগেই চান্দনা চৌরাস্তার ঢাকামুখী উড়ালসড়ক চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকামুখী যানবাহনের চলাচল সহজ হবে। পাশাপাশি মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা, বাজার ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এতে যানবাহনের চাপ বাড়লেও যানজট কমবে বলে আশা করছে ট্রাফিক পুলিশ।

Link copied!