বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর অন্যতম অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলে নতুন নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে সংগঠনের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং আগামী রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজপথের আন্দোলন–সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নেতাদেরই এবার স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ পদে মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে দলের ভিতর বেশ গুন্জন শোনা যাচ্ছে।
২০২২ সালে ঘোষিত বর্তমান কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী এবং সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান।
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনি সাফল্যের পর তাঁরা দু'জন জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এর মধ্যে সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের ব্যস্ততার কারণে,সংগঠনের কার্যক্রমে গতি আনতে নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ তিন বছর। ২০২২ সালে গঠিত বর্তমান কমিটির মেয়াদ গত বছরের সেপ্টেম্বরেই শেষ হয়েছে। ফলে কমিটি বর্তমানে কার্যত মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
বিএনপি আগামী ডিসেম্বর মাসে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। ওই কাউন্সিলকে সামনে রেখে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃত্ব পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
শীর্ষ নেতৃত্বে আলোচনায় যাঁরা নতুন কমিটির শীর্ষ পাঁচ পদে (‘সুপার ফাইভ’) আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, সহসভাপতি এম জি মাসুম রাসেল, সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, যুগ্ম সম্পাদক নাসিমা আক্তার সিমু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন এবং দপ্তর সম্পাদক কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
দলীয় সূত্র বলছে, আন্দোলন–সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এবং অতীতে কারাবরণকারী সাবেক ছাত্রনেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
বিশেষ করে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক নাসিমা আক্তার সিমুর নাম সংগঠনের অভ্যন্তরে আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্দোলন–সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার কারণে সম্ভাব্য শীর্ষ নেতৃত্বের তালিকায় তাঁকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
দলীয় হাইকমান্ড ইতোমধ্যে সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যাচাই–বাছাই শুরু করেছে। খুব শিগগিরই স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :