ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে সেতু অনুমোদন: দুর্গাপুরে ঈদের আমেজ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের মাঝে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর উপজেলায় রয়েছে প্রচুর খনিজ সম্পদ। এছাড়া কুল্লাগড়া ইউনিয়নের সাদামাটি, রানীখং ধর্মপল্লী, নীল পানির লেক, সোমেশ্বরী নদীর স্বচ্ছ পানির ধারা, রাশিমনি স্মৃতিসৌধ, কমরেড মণিসিংহ স্মৃতিযাদুঘর সহ বিভিন্ন এলাকায় পর্যটকদের ভিড় লেগে আছে প্রায় সাড়া বছরই। কিন্ত শুধুমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না থাকায় অত্র এলাকা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পর্যটকরা।

সোমেশ্বরী নদীর লাল বালু, কয়লা, পাথর ও সাদামাটির মতো প্রাকৃতিক সম্পদ থাকার পরেও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে অর্থনৈতিক ভাবে সফল হতে পারছেনা দুর্গাপুর উপজেলা। স্থানীয় বেকার যুবকদের হচ্ছে না কর্মসংস্থান, তৈরী হচ্ছেনা উদ্দোক্তা। নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, নানা ধরনের ইশতেহারে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির মধ্যে রেললাইন সম্প্রসারণ ও সোমেশ^রী নদীতে সেতু নির্মান ছিল অন্যতম।

এরই প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোনা- ১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ইতোমধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন সহ রেল মন্ত্রনালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নিয়ে জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রাসারণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে দুর্গাপুর পরিদর্শন করে গেছেন। ওই খুশির আমেজ যেতে না যেতেই, ঈদের আগেই দুর্গাপুরবাসীর জন্য এক চমক উপহার দিলেন ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বৃহস্পতিবার (২১ মে ) দুপুর থেকেই উপজেলা বিভিন্ন হাট-বাজার, চায়ের দোকান গুলোতে বইছে খুশির আমেজ, স্থানীয়রা বলছেন, এযেনো ঈদের আগেই ঈদের খুশি নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। ধন্যবাদ জানাই মানবিক নেতাকে।

“ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ” শীর্ষক প্রকল্পের মধ্যে, তিন হাজার ছয়শত সাতাত্তর কোটি সতেরো লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকা ব্যায়ে, দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর উপর দুর্গাপুর-কুল্লাগড়া (তিনালি), সোমেশ্বরী নদীর উপর দুর্গাপুর-বিরিশিরি (ভবানীপুর) এবং বলমাকান্দা উপজেলার বড়–য়াকোনার মহাদেও নদীর উপর, লেংগুড়া গণেশ্বরী নদীর উপর ও ধোবাউড়ার নিতাই নদীর ওপর ৫টি সেতু নির্মানের প্রকল্প একনেক এর সভায় অনুমোদিত হয়। ২০.০০.০০০০.৪১১.১৪.৫৯.২৬.৪৬০ নং স্মারকে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের উপসচিব স্নিগ্ধা  তালুকদার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্থানীয়দের মতে, জারিয়া-ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন বাস্তবায়ন শুধু একটি যোগাযোগ প্রকল্প নয়; এটি পুরো নেত্রকোনা অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, পর্যটন বিকাশ এবং শিল্পায়নের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। তেমনি দুর্গাপুর উপজেলায় সোমেশ্বরী নদীর ওপর ২টি সেতু নির্মান পুরো উপজেলার অর্থনৈতিক চাকা ঘুরে যাবে। এ উদ্যোগের জন্য উপজেলাবাসী ডেপুটি স্পিকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আদিবাসী নেতা অঞ্জন চিছাম বলেন, দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর ওপর দুটি সেতু নির্মানে প্রকল্প অনুমোদনের খরর শুনে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।  এটি বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কথায় কাজে মিল রয়েছে বলেই ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আমাদের যোগ্য নেতা।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান বলেন, দুর্গাপুর উপজেলায় সোমেশ্বরী নদীর ওপরে দুটি সেতু নির্মান প্রকল্পের অনুমোদন এযেনো স্বপ্নে মতো লাগছে। অত্র এলাকার মানবিক নেতা, জাতীয় সংসদের মান্যবর ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান কে দুর্গাপুর উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুর উপজেলার অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন ঘটবে।

 

Advertisement

Link copied!