ইবির বন্ধ হলে চুরির চেষ্টা, চোর পালালেও মালামাল উদ্ধার

ওয়াসিফ আল আবরার , ইবি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসিক হল শাহ আজিজুর রহমান হলে চুরির চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তা রক্ষীদের ধাওয়ায় চোর দেয়াল টপকে পালিয়ে গেলেও বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে উক্ত হলের ন্যাশনাল ব্লকের প্রথম ও দ্বিতীয় ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।

ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে গত ২১ মে থেকে ২৩ দিনের লম্বা ছুটি চলছে। এরমধ্যে ২৩ মে সকাল ১০টা থেকে আগামী ৭ জুন সকাল ১০ টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, বন্ধকালীন সময়ে আজ দুপুরের দিকে সুযোগ বুঝে চোর হলের ভেতরে প্রবেশ করে। এসময় বিভিন্ন রুমে খাবার রান্না করার জন্য থাকা হাড়ি পাতিল, কড়াইয়ের ঢাকনা এবং বাথরুমে কাপড় রাখার হ্যাঙ্গার গুলো খুলে নেয়। চুরি করে বের হওয়ার সময় হলের পাশেই বসবাস করা অ্যাম্বুলেন্স চালক আনিসুর রহমান দেখতে পেয়ে চোর চোর বলে ডাকাডাকি করলে ভয় পেয়ে তৃতীয় ব্লকের দোতালা থেকে লাফ দিয়ে নীচে নেমে হলের পেছনের সীমানাপ্রচীর টপকিয়ে পালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী এম্বলেন্স চালক মুন্সী আনিসুর রহমান বলেন, আমি ডায়নিংয়ের এদিকে ছিলাম। হঠাৎ দেখি দোতালার দিকে একটা লোক ঘোরাফেরা করছে। দেখেই আমার সন্দেহ হয় কারণ হল বন্ধ থাকা অবস্থায় ভেতরে কারো থাকার কথা না। পরে আমি যখন ধরতে পারলাম না তখন চেচামেচি করায় ভয় পেয়ে বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সবাইকে জানানো হলে বস্তা খুলে রান্নার জিনিসপত্র আর লোহার জিনিসপত্র পাওয়া যায়। এগুলো এখন প্রশাসনের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

হলের দায়িত্বরত আনসার গহর আলী বলেন, আমি গেটে বসে ডিউটি করছিলাম। হঠাৎ একটি শব্দ শুনি। এরপরে তাকে দেখে চাবি নিয়ে এসে গেট খুলতে খুলতে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। 

হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এটিএম মিজানুর রহমান,  বিষয়টি আমি অবগত আছি, আমার মনে হয়েছে বারান্দায় থাকা রান্নার জিনিসপত্র গুলো চোর নেওয়ার চেষ্টা করেছে। হলের এক কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছি গার্ডকে নিয়ে প্রতিটি রুম ঠিকঠাক আছে কিনা দেখে আসতে। তবে, দোতালার বারান্দা গুলো আটকে দেওয়া না হলে ছোটখাটো এমন সমস্যা হতে পারে। আবার আটকে দিলেও কিছু সমস্যা এসে যায়; যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় এটা, একটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ছেলেরা হলে আটকে পড়বে। তবে আপাতত আনসার বৃদ্ধি এবং রাতে সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেনি, বারান্দায় থাকা পরিত্যাক্ত কয়েকটি কড়াই, হাড়ি নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। মালামাল গুলো উদ্ধার করা হয়েছে। সিকিউরিটি গার্ড তাড়া মারলে সে পালিয়ে যাওয়ার ধরা যায়নি। তবে আমরা আনসারের অবহেলা আছে কিনা দেখব, চোরকেও ধরার চেষ্টা করবো। রুম গুলো তো তালা দেওয়া আছে, রুম গুলো ঠিকঠাক আছে কিনা তা দেখার নির্দেশনা দিচ্ছি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে।

 

Link copied!