বাংলাদেশে জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা ও বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজশাহী কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২১তম ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর রাজশাহী আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশবিজ্ঞান বিষয়ে নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে রাজশাহী কলেজের কলা ভবনে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে এবং রাজশাহী অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের ব্যবস্থাপনায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতাটি জুনিয়র (১৪–১৫ বছর) ও সিনিয়র (১৬–১৮ বছর)—এই দুই বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা জ্যোতির্বিজ্ঞান, মহাকাশবিজ্ঞান এবং বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণধর্মী বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রতিযোগিতা শেষে সিনিয়র বিভাগ থেকে ১০ জন এবং জুনিয়র বিভাগ থেকে ১০ জনসহ মোট ২০ জনকে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
প্রতিযোগিতা শেষে নির্বাচিত ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিক মোসাদ্দিক। তিনি বলেন, বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণামুখী শিক্ষা একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত। শিক্ষার্থীদের জ্যোতির্বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের সম্পাদক আননাবা কবীর প্রকৃতি, বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ঢাকা টিমের সাধারণ সম্পাদক জসিমউদ্দিন অর্ণব এবং অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াডের রাজশাহী আঞ্চলিক আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব মো. হাসিবুল হাসনাত রিজভি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জ্যোতির্বিজ্ঞান শুধু মহাকাশ সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রই নয়, এটি শিক্ষার্থীদের যুক্তিবাদী চিন্তা, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন প্রয়োজন।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান আতিক বলেন, “অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ সৃষ্টি, অনুসন্ধিৎসু ও উদ্ভাবনী মানসিকতার বিকাশ এবং বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। রাজশাহীর শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা চাই, এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশবিজ্ঞান চর্চায় আরও এগিয়ে যাক। আজকের অংশগ্রহণকারীরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক।”
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও বিজ্ঞানকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দিতে এবং তরুণদের গবেষণামুখী করে তুলতে রাজশাহী অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবে।
আয়োজকরা প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতার জন্য রাজশাহী কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক, অভিভাবক এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত ২০ প্রতিযোগীর সাফল্য কামনা করেন।

আপনার মতামত লিখুন :