ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ১২ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। (১ জুন) সোমবার গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত আবু রাহাত (২০) ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের অর্জুনখিলা গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে। তিনি তারাকান্দা উপজেলার ধলীরকান্দা মাঠখলা এলাকায় অবস্থিত রওজাতুল আতফাল নূরানীয়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও জান্নাতুল মোবাশ্বিরা মহিলা মাদরাসার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদরাসার নাজেরা জান্নাত বিভাগের আবাসিক ছাত্র। গত ২২ মে দুপুরে মাদরাসার একটি কক্ষে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অবস্থানকালে শিক্ষক আবু রাহাত তাকে ডেকে অফিসকক্ষে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে বলাৎকার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ছুটিতে বাড়ি ফেরার পর শিশুটি পায়ুপথে তীব্র ব্যথার কথা তার মাকে জানায়। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে চাইলে সে নির্যাতনের ঘটনা খুলে বলে। একপর্যায়ে শিশুটি জানায়, এর আগেও অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে একাধিকবার একই কায়দায় অফিসকক্ষে নিয়ে নির্যাতন করেছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশুটির চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে সুস্থতার কিছুটা উন্নতি হলে তার মা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তারাকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সজিব চন্দ্র দাস বলেন, “ভুক্তভোগীর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু রাহাতকে ৩১ মে রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ১ জুন দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :