'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' স্লোগান নিয়ে দিল্লির রাজপথে তেলাপোকা পার্টি!

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৭ জুন, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম

বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে বহুল ব্যবহৃত ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে প্রতিবেশী ভারতেও। রাজধানী নয়াদিল্লিতে তরুণদের এক অভিনব বিক্ষোভ সমাবেশে এই স্লোগান ধ্বনিত হওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

শনিবার (৬ জুন) দিল্লির জন্তর মন্তরে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য সমাবেশ করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক তরুণ সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তীব্র গরম উপেক্ষা করে শত শত তরুণ-তরুণী এতে অংশ নেন। কেউ তেলাপোকার মুখোশ পরে, কেউ হাতে বই বা ফুলের তোড়া নিয়ে সমাবেশস্থলে হাজির হন।

এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ ও বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে। গত ১৬ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘ককরোচ আন্দোলন’-এর সূচনা করেন।

আন্দোলনের সূত্রপাত একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এক শুনানিতে বেকার তরুণদের ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সেই মন্তব্যের প্রতিবাদেই ব্যঙ্গাত্মক প্রতীক হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র জন্ম।

সমাবেশে অংশ নেওয়া তরুণদের কণ্ঠে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান শোনা গেলে তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়ে ওঠে। ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতারা এই স্লোগানকে উস্কানিমূলক বলে মন্তব্য করেছেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে অভিজিৎ দিপকে দাবি করেন, ভারতে সরকারবিরোধী মত প্রকাশের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে।

তার ভাষায়, “আমার মা মনে করেছিলেন দেশে ফিরলেই আমাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। শুধু আমার পরিবার নয়, অনেক পরিবারই মনে করে সরকারকে সমালোচনা করলে তাদের সন্তানরা সমস্যায় পড়তে পারে।”

তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার এমন অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। বিজেপির দাবি, সরকার সংবিধান ও আইনের কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু অভিযোগ করেছেন, ককরোচ জনতা পার্টির বিপুলসংখ্যক অনলাইন অনুসারীর একটি অংশ পাকিস্তান ও তথাকথিত ‘ভারতবিরোধী গোষ্ঠী’ দ্বারা পরিচালিত। তবে অভিজিৎ দিপকে এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছেন।

সমাবেশ চলাকালে কয়েকজন বিজেপি-সমর্থক কর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে পাল্টা স্লোগান দিতে থাকেন। তারা ‘দিল্লি পুলিশ লাঠি চালাও, আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি’ বলে স্লোগান দেন। পরে সমাবেশস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করলে কয়েকজনকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।

পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সরকারি বাসভবনের আশপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জেন-জেড জনগোষ্ঠীর দেশ ভারতে তরুণদের এই নতুনধারার প্রতিবাদ আন্দোলন ভবিষ্যতে কতটা রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া ‘ককরোচ আন্দোলন’ যে মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আর ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানকে ঘিরে আন্দোলনটি জাতীয় পর্যায়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Link copied!