ময়মনসিংহের ফুলপুরে একটি ঘরের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বিধবা শেফালী আক্তার। উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের কাইচাপুর উত্তরপাড়া এলাকায় স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন একটি ভাঙা ঘরে তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। তার স্বামীর ভিটে থাকলেও থাকার মতো একটি ঘর নেই।
পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, শেফালী আক্তারের ঘরের উপরে ও নিচে সব দিক দিয়ে টিন ভাঙা ও ছিদ্র। বৃষ্টির সময় চতুর্দিক দিয়ে ঘরে পানি পড়ে। মধ্য রাতে বৃষ্টি এলে বিছানা গুছিয়ে মাথার উপর পলিথিন দিয়ে বসে থাকতে হয়। স্বামী মারা যাওয়ার পর ২০১২ সালের ৮ আগস্ট থেকে এই কষ্ট চলছে। তার স্বামী হাফেজ মাওলানা বদরুল আলম ইন্তেকাল করেন। তিনি সিলেটের বালাগঞ্জে দীর্ঘদিন ইমামতি করেছেন। মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ও ১টি মেয়ে সন্তান রেখে গেছেন। কিন্তু স্বল্প বেতনে চাকরি করায় কোনো পয়সাকড়ি রেখে যেতে পারেননি।
তার বড় ছেলে খালিদ সাইফুল্লাহ তামজিদ ও ছোট ছেলে খালিদ মাসউদ তাহমিদ কিছুটা বাকপ্রতিবন্ধী। তারা কথা গুছিয়ে বলতে পারেন না। বড় ছেলে বিয়ে করেছে এবং ছোট ছেলেটিও বিয়ের উপযুক্ত। মেয়ে ফাতেমাতুজ্জোহরার বিয়ে হয়ে গেছে।
স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে আয় রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শেফালী আক্তার অত্যন্ত কষ্টে জীবনযাপন করছেন। নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য একটি ঘর না থাকায় প্রতিনিয়ত তাকে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে তার দুর্ভোগ এতটাই বেড়ে যায় যে, রাত কাটে ঘর মুছতে ও চোখ মুছতে মুছতে। এমতাবস্থায় মানবিক সহায়তা ও একটু মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের আশায় দিন কাটছে তার।
শেফালী আক্তার একজন আলেম ও ইমামের স্ত্রী হিসেবে শরয়ী পর্দা করেন। পর্দার আড়াল থেকে তিনি জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আয়-ইনকাম নেই। টাকা-পয়সার অভাবে একের পর এক দুঃখ-কষ্ট যেন পিছু ছাড়ছে না। তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন, কিন্তু শত কষ্টের মধ্যেও কারো কাছে হাত বাড়াননি। তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তায়ালা যদি আপনাদের উসীলায় একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেন, তবে খুশি হবেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী বলেন, অসহায় এই নারীর জন্য দ্রুত একটি বসতঘরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তারা এমপি ও ইউএনওসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ইউসুফের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত আমাদের হাতে কোনো ঘর নেই। তবে দেখা যাক, তার জন্য কতটুকু কী করা যায়। আমি ওই ইউনিয়নের প্রশাসককে বলে দিচ্ছি, তিনি বিষয়টি দেখবেন। এসময় তাৎক্ষণিকভাবে অসহায় শেফালী আক্তারের জন্য তিনি কিছু খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেন।
আপনার মতামত লিখুন :