হিল্লা বিয়ে নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করলেন আজহারী

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬, ০৭:২৯ এএম

তিন তালাক ও হিল্লা বিয়ে নিয়ে সমাজে প্রচলিত নানা ভুল ধারণা ও বিভ্রান্তির বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক ড. মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি বলেছেন, শরিয়তের বিধানকে কৌশলে পাশ কাটানোর উদ্দেশ্যে সাজানো বা পূর্বপরিকল্পিত হিল্লা বিয়ে ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এটি একটি কবিরা গুনাহ।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আজহারী বলেন, শরিয়তের প্রতিটি বিধান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত এবং তা মানবকল্যাণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রণীত। তাই শরিয়তের কোনো বিধানকে অপব্যবহার করা বা কৌশলে অতিক্রম করার চেষ্টা কোনো সচেতন ও অনুশীলনকারী মুসলিমের কাজ হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ইসলামে যে ‘তাহলিল’ বা ‘হিল্লা’ বিবাহের কথা নিন্দিত হয়েছে, তা হলো এমন একটি পূর্বপরিকল্পিত বিয়ে, যার একমাত্র উদ্দেশ্য থাকে তিন তালাকপ্রাপ্ত নারীকে প্রথম স্বামীর জন্য পুনরায় বৈধ করে তোলা। হাদিসে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতি কঠোর সতর্কতা উচ্চারিত হয়েছে।

আজহারী হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমি কি তোমাদের ভাড়াটে পাঁঠা সম্পর্কে অবহিত করব না?” সাহাবিরা সম্মতি জানালে তিনি বলেন, “সে হলো তাহলিলকারী।” এরপর তিনি উল্লেখ করেন, আল্লাহ তাহলিলকারী এবং যার জন্য তাহলিল করা হয়—উভয়ের ওপরই অভিশাপ দিয়েছেন। (ইবনে মাজাহ: ১৯৩৬)

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, তিন তালাকের পর কোনো নারী যদি স্বাভাবিকভাবে অন্য একজনকে বিয়ে করেন এবং পরবর্তীতে সেই সংসার স্বাভাবিক কারণে বিচ্ছেদে শেষ হয়, তাহলে ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর পূর্বের স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিবাহে শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো বাধা নেই।

ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ভাষ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ হলো কেবল কাউকে পুনরায় হালাল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত বা সাজানো বিয়ে। অন্যদিকে স্বাভাবিকভাবে সংঘটিত বৈধ বিবাহ এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতিতে পুনর্বিবাহের সুযোগ ইসলামে বিদ্যমান।

পোস্টের শেষে তিনি শরিয়তের সঠিক অনুশীলনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিধানের অপপ্রয়োগ নয়, বরং সুন্নাহর যথাযথ অনুসরণের মাধ্যমেই সমাজ ও পারিবারিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর কাছে সব ধরনের ফেতনা থেকে মুসলিম উম্মাহর মুক্তি কামনা করেন।

Link copied!