সোনারগাঁয়ে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ - যুবদল নেতা শহিদুল গ্রেফতার, দল থেকে বহিষ্কার

ফাহাদুল ইসলাম , নারায়ণগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের সিরাব এলাকায় এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে যুবদল নেতাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম শহিদকে দলীয় পদসহ প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার ১৫ জুন সকালে অভিযুক্ত যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম শহিদকে দলীয় পদসহ প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামপুর ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি।

গত শুক্রবার ১২ জুন রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—জামপুর ইউনিয়ন যুবদলের ২ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহিদ ওরফে শহিদ (৪০) এবং তার সহযোগী শাহিন মিয়া (৩৮)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী স্বামী-সন্তান নিয়ে সিরাব এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। গত ১০ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রান্নাঘরে কাজ করার সময় অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে সন্তানের ভয় দেখিয়ে পাশের একটি চারতলা ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে হাত-মুখ বেঁধে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী বাসায় ফিরে সন্ধ্যায় স্বামীকে বিষয়টি জানান। এরপর তিনি সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি গোলাম সারোয়ার জানান, “মামলা গ্রহণের পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জামপুর ইউনিয়ন যুবদলের ২ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহিদকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে জামপুর ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি।

দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বহিষ্কৃত নেতার কোনো অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল বহন করবে না। যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

Link copied!