হঠাৎ গোড়া পচা রোগে কেশবপুরের ওলক্ষেত ঝুঁকিতে, কৃষকদের সতর্ক থাকার আহ্বান

হারুনার রশীদ বুলবুল , কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

যশোরের কেশবপুর উপজেলার আলতাপোল গ্রামের কৃষক জি. এম. মিন্টুর ওলক্ষেতে হঠাৎ গোড়া পচা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সুস্থ-সবল গাছের গোড়ায় পচন শুরু হয়ে কয়েকটি গাছ মাটিতে হেলে পড়ায় কৃষকের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে খবর পেয়ে দ্রুত মাঠ পরিদর্শন করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেছে।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে কেশবপুরে ৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ওলের আবাদ হয়েছে। আলতাপোল গ্রামের কৃষক জি. এম. মিন্টু প্রায় ১০ শতক জমিতে ওলের আবাদ করেছেন। উঁচু ও বেলে মাটির জমি হওয়ায় সেখানে পানি জমার কোনো আশঙ্কা নেই। পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়ায় শুরুতে গাছের বৃদ্ধি ছিল সন্তোষজনক। কিন্তু কয়েকদিন আগে হঠাৎ কয়েকটি গাছের গোড়ায় পচন দেখা দেয়। পরে একে একে আরও কিছু গাছে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে কৃষক দুশ্চিন্তায় পড়েন।

ক্ষেত পরিদর্শনে দেখা যায়, আক্রান্ত গাছের গোড়ায় বাদামি ও কালচে দাগ সৃষ্টি হয়েছে। কিছু স্থানে সাদা ছত্রাকের মতো আবরণও লক্ষ্য করা গেছে। ফলে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে মাটিতে ঢলে পড়ছে। কৃষকের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে রোগটি পুরো ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কৃষক জি. এম. মিন্টু বলেন, অনেক আশা নিয়ে ওলের আবাদ করেছি। জমির অবস্থান ভালো, পানি জমে না এবং নিয়মিত পরিচর্যাও করেছি। তারপরও হঠাৎ গোড়া পচা রোগ দেখা দিয়েছে। কয়েকটি গাছ ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আমি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে এটি ছত্রাকজনিত গোড়া পচা রোগ বলে মনে হচ্ছে। আক্রান্ত গাছগুলো দ্রুত অপসারণ করতে হবে এবং ক্ষেত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পাশাপাশি রোগের বিস্তার রোধে কৃষকদের সতর্ক থাকতে হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, কৃষকদের ফসলের যেকোনো সমস্যা কৃষি বিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন। রোগের কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে কৃষকরা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পান।

তিনি আরও বলেন, ওলসহ বিভিন্ন ফসলে রোগবালাই দেখা দিলে কৃষকদের দ্রুত কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। সময়মতো সঠিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করলে ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

কৃষি বিভাগের এমন তাৎক্ষণিক উদ্যোগে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগের বিস্তার রোধে আক্রান্ত গাছ দ্রুত অপসারণ, ক্ষেত পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।

Link copied!