রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ড. আতিউর রহমানের সম্পৃক্ততা মিলেছে

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম

বাংলাদেশ ব্যাংকের বহুল আলোচিত রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সংস্থাটি মামলার খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে এবং চূড়ান্ত আইনি মতামতের জন্য প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সিআইডির মুখপাত্র জসীমউদ্দিন খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশের অন্যতম বড় আর্থিক জালিয়াতির এই ঘটনায় বিস্তৃত ও বিস্তারিত তদন্তের ভিত্তিতে খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরি করে হ্যাকাররা। এর মধ্যে ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের চারটি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কার একটি ব্যাংকে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও একটি বানানগত ভুলের কারণে সেই লেনদেন সফল হয়নি।

পরবর্তীতে ফিলিপাইন থেকে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন উপ-পরিচালক (হিসাব ও বাজেটিং) জোবায়ের বিন হুদা মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।

এর আগে সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ জানিয়েছিলেন, ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকে থাকা চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অর্থটি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আশাবাদী তদন্ত সংস্থা।

সাবেক গভর্নরসহ উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার নাম তদন্তে উঠে আসায় মামলার চার্জশিটটি এখন আইন ও রাজনীতির অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Link copied!