বিচার, সংস্কার ও দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উদ্যোগে কিশোরগঞ্জে একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় কিশোরগঞ্জ শহরের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম চত্বর (কালীবাড়ি মোড়) এলাকায় এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ এমপি, দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সারজিস আলম, কিশোরগঞ্জ জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরাম হোসেন, যুগ্ম সদস্যসচিব আহনাফ সাঈদ খান, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার খেলাফত মজলিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার খেলাফত মজলিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলায় একটি কথা আছে, বাপের সম্পদ যেমন ছেলে বিক্রি করতে দ্বিধা করে না, তেমনি বিএনপিও দেশকে বিক্রি করে দিতে দ্বিধা করবে না। কারণ, এই দেশ তো তারা অর্জন করেনি। জুলাই আন্দোলনের সময় একজন ছিলেন লন্ডনে, আরেকজন ছিলেন ভারতে। তারা রাজপথে আন্দোলন করেননি; আন্দোলন টেলিভিশনে দেখেছেন।
উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সারজিস আলম বলেন, একজন মানুষ যখন বিপদে পড়ে, তখন সে তার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যায়। তেমনি খুনি স্বৈরাচার শেখ হাসিনা তার নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে গেছে। ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ২০১৩ সালে আলেমদের ওপর গণহত্যা এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের আন্দোলনে ১,৪০০-এর বেশি সাধারণ মানুষ, কৃষকের সন্তান, গার্মেন্টসকর্মী ও শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা তরুণ সমাজ চেয়েছিলাম সংস্কারের মাধ্যমে এই খুনি শেখ হাসিনার বিচার হোক। বিএনপিকে বলতে চাই, দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ তারেক রহমানকে ভোট দেয়নি; তারা ভোট দিয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে। তারেক রহমান যদি বিন্দুমাত্র সাহস করে ৭০ শতাংশ গণমানুষের ভোটকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন এবং সংস্কার বাস্তবায়ন না করেন, তাহলে এ ধরনের প্রতারণার কারণে আগামী নির্বাচনে বিএনপির রাজনীতির কবর রচিত হবে। তাই তারেক রহমানকে বলব, আপনি সংস্কার বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করুন।
মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, নির্বাচনের আগে তারেক রহমান জনগণের কাছে গিয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন, ‘আপনারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে আমি বাংলাদেশে সংস্কার বাস্তবায়ন করব। কিন্তু নির্বাচনের পরে দেখলাম, তিনি সংসদে গিয়ে বললেন, বাংলাদেশে কোনো সংস্কারের প্রয়োজন নেই। যে তারেক রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রক্ত বহন করেন, তিনি সেই রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে একটি সংশোধন কমিটি গঠন করে বাংলাদেশে কুসংস্কারের জন্ম দিয়েছেন। আপনি যদি আমাদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেন, তাহলে আমরা দেখব না আপনি কার সন্তান। যেভাবে শেখ হাসিনাকে লাল কার্ড দেখিয়েছিলাম, প্রয়োজনে আপনাকেও লাল কার্ড দেখাতে বাধ্য হব।
আমরা আশা করেছিলাম, আপনি লন্ডনে গিয়ে শুদ্ধ হবেন। কিন্তু আপনার বুকে জমে থাকা পাপ পরিষ্কার হয়নি। এখনও সময় আছে। আসুন, আপনার হৃদয়টা জমজমের পানি দিয়ে পরিষ্কার করে দিতে চাই। আপনি যদি সংস্কার বাস্তবায়ন না করেন, শেখ হাসিনার বিচার না করেন, শহীদ উসমান হাদীর রক্তের প্রতিশোধ না নেন এবং শহীদ ওয়াসিমের হত্যাকাণ্ডের বিচার না করেন, তাহলে আবারও এই তরুণ সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আপনার গদিতে আগুন জ্বালিয়ে দেব বলে হুশিয়ার দেন। আমাদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না। আমরা অনেক লড়াই করেছি, পড়ার টেবিল থেকে উঠে এসেছি। বাংলাদেশ ৫৩ বছর প্রতারিত হয়েছে। আমরা আর প্রতারিত হতে চাই না। আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।
আপনি যদি ক্ষমতা চালাতে না পারেন, তাহলে আমাদের দিয়ে দিন, আমরা চালাব। আপনার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিনের চেয়ে একজন কৃষকের ছেলে আরও দক্ষতার সঙ্গে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে পারবে। আমরা কারও গোলামি করার জন্য এ দেশে সংস্কার চাই না। যারা গোলামি করেন, গাড়ির পেছনে পেছনে দৌড়াদৌড়ি করেন, তারা আমাদের কাছে আসুন—আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি দেব। এই কিশোরগঞ্জের জন্য ফজলুর রহমান (ফজু পাগলা একটি কলঙ্ক ) আপনি তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তার কারণে কিশোরগঞ্জের মানুষ মহাবিরক্ত। সারাদিন উল্টাপাল্টা কথা বলার কারণে এখন কিশোরগঞ্জের নাম শুনলেই মানুষের মনে ফজু পাগলার নাম চলে আসে।
অনেকেই বলেন, মির্জা ফখরুল একজন ভালো মানুষ। কিন্তু তিনি যদি সত্যিই ভালো মানুষ হন, তাহলে কীভাবে বাটপার, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের জেলা প্রশাসকের চেয়ারে বসান? বিএনপি আমাদের তরুণদের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে। অপেক্ষা করুন, আগামী নির্বাচনে আপনাদের সঙ্গেই খেলা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :