দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যেই বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছেন। গ্রামীণ উন্নয়ন, রাস্তাঘাট, নদীভাঙন প্রতিরোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছ বাস্তবায়নে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত বা কোনো অন্যায় সুবিধা আদায়ের জন্য কোনো ধরনের সুপারিশ না করার নীতিতে অনড় থেকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসম্পৃক্ত উন্নয়ন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
পরিবেশ সংরক্ষণে তাঁর নির্দেশনায় বাবুগঞ্জ ও মুলাদীর বিভিন্ন ইউনিয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যা সমাধানে প্রায় ৯৫০ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে পাঁচটি প্যাকেজে বাবুগঞ্জের মীরগঞ্জ ফেরিঘাট, মীরগঞ্জের রফিয়াদি গ্রাম, দেহেরগতি ইউনিয়নের ইদিলকাঠী, কেদারপুর ইউনিয়নের মোল্লারহাটসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া এলাকা নদীভাঙন রোধে সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।
সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় কাবিখা ও টিআর প্রকল্পের মাধ্যমে দুই উপজেলায় দুই শতাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাবুগঞ্জে ৯০টির বেশি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার এবং মুলাদীতে প্রায় ১১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ইট সোলিং করা হয়েছে। পাশাপাশি মুলাদীতে পাঁচটি সেতু-কালভার্ট নির্মাণের কাজ এবং প্রায় ৩ কিলোমিটার এইচবিবি (HBB) সড়ক নির্মাণ চলমান রয়েছে।
এলজিইডির আওতায় বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের চারটি কার্পেটিং সড়কের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ত্রাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বাবুগঞ্জে ৩০টির বেশি এবং মুলাদীতে প্রায় ২৫টি অসহায় পরিবারের মধ্যে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে। একই সময়ে বাবুগঞ্জে ২৫ টন এবং মুলাদীতে ৩৫ টন জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মুলাদী উপজেলায় ১১ লাখ টাকা এবং বাবুগঞ্জ উপজেলায় ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা এ এলাকার অসহায় দুস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সোহেল হোসেন এবং মুলাদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা জানান, সরকারি বরাদ্দের আওতায় গৃহীত উন্নয়ন ও ত্রাণ কার্যক্রম সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, সংসদ সদস্যের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন বলেন, সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। বাবুগঞ্জ ও মুলাদীর প্রতিটি এলাকায় উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। নদীভাঙন প্রতিরোধ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার।
মুলাদী-মীরগঞ্জ সেতুর অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বহুল প্রতীক্ষিত মুলাদী-মীরগঞ্জ সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা নাকচ হওয়ার কোনো কারণ নেই। একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নির্মাণসংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে। বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগছে। তবে আশা করছি, অচিরেই এ সংকট কাটিয়ে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে।
উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা, সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছ বাস্তবায়ন, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ আরও জোরদার করা গেলে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সার্বিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে বলে আশা রাখেন স্থানীয় সুশীল ব্যক্তিগণ।

আপনার মতামত লিখুন :