প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর শুধু স্মৃতি সংরক্ষণের স্থান নয়; এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন এবং পরে ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫ আগস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন ও নির্যাতনকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করা হয়েছিল। সেই সময়ের নির্মমতা, গণআন্দোলনের ইতিহাস এবং শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণে জুলাই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ইতিহাস মানুষের বিশ্বাসকে দুর্বল করে এবং সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে। তাই এই জাদুঘর কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বয়ান প্রতিষ্ঠার স্থান নয়; বরং জনগণের আন্দোলন-সংগ্রামের নিরপেক্ষ ইতিহাস সংরক্ষণের কেন্দ্র হওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের জন্য নয়, এটি ছিল জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলন। যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান জাতি ভুলে যায়নি, তেমনি জুলাইয়ের শহীদ ও আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগও মানুষ স্মরণে রাখবে।
তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সব ধরনের অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় সহায়তা দিতে সরকার কাজ করছে।
তারেক রহমান ঘোষণা দেন, গত ১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ব্যক্তিদের নামে তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হবে।
তিনি বলেন, দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সরকারের ৩১ দফার পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। শহীদদের স্বপ্নের একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ অপ্রয়োজনীয় ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা পলাতক স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথ তৈরি করছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মারক, শহীদদের আত্মত্যাগ, আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, সংরক্ষিত দলিল ও নিদর্শন পরিদর্শন করেন। পরে তিনি ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নেন।

আপনার মতামত লিখুন :