সাংবাদিক মোরশেদ আলী মারুফকে নাজেহালের অভিযোগ, প্রতিবাদে সাংবাদিক সমাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৬ এএম

সাংবাদিক মোরশেদ আলী মারুফকে নাজেহালের অভিযোগ, প্রতিবাদে সাংবাদিক সমাজ

ফাইল ফটো

সিনিয়র অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোরশেদ আলী মারুফকে আইনি নোটিশ ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টার অভিযোগে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একটি নারীকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ একটি চক্র সাংবাদিক মারুফকে হয়রানি ও তার পেশাগত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। সাংবাদিক মারুফের দাবি, ওই নারীর বিরুদ্ধে কথিত প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইলিং ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে কিছু তথ্য-প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ তার কাছে রয়েছে।

 এসব বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের চাপ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

সম্প্রতি ওই নারীর পক্ষ থেকে সাংবাদিক মারুফকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো এবং তার বিরুদ্ধে একটি সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সাংবাদিক মারুফের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও তাকে পেশাগতভাবে চাপে রাখার চেষ্টা হিসেবে দাবি করা হয়েছে। 

তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, সিনিয়র সাংবাদিক মোরশেদ আলী মারুফকে হয়রানি ও অপপ্রচারের অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন ক্রাইম রিপোর্টার সোসাইটিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনগত ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত। কিন্তু সাংবাদিকতার কারণে কাউকে ভয়ভীতি, হয়রানি বা সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, একজন সাংবাদিকের কাছে কোনো অভিযোগ বা তথ্য-প্রমাণ থাকলে সেটি যাচাই-বাছাই করে বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশের প্রধান মোঃ খায়রুল আলম রফিক। তিনি বলেন, “সাংবাদিক মোরশেদ আলী মারুফকে হয়রানি ও নাজেহালের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া কিংবা আইনি ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করে তাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও চাপ প্রয়োগের ঘটনা বন্ধ না হলে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশ সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মতভাবে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন— ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

Link copied!