অতিথি না করায় ছাত্রদল নেতার ‘১৪৪ ধারা’ জারির মাইকিং

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:৪২ এএম

অতিথি না করায় ছাত্রদল নেতার ‘১৪৪ ধারা’ জারির মাইকিং

ফাইল ফটো

নাটোরের লালপুরে ফুটবল খেলার ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি না করায় বেআইনিভাবে মাইকিং করে ‘১৪৪ ধারা’ জারির ভুয়া ঘোষণা দিয়েছেন মারুফ আলী নামে এক ছাত্রদল নেতা। এতে গ্রামজুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বন্ধ হয়ে যায় টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) লালপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কেশবপুর গ্রামে দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছর ধরে নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসছে এই ফুটবল টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্টের আয়োজক ও খেলোয়াড়- উভয়েই স্থানীয় গ্রামবাসী। ঐতিহ্য অনুযায়ী, খেলা শেষে গ্রামের প্রবীণ বা প্রধান ব্যক্তিরাই বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কোনো ব্যক্তিকেই এই খেলায় অতিথি করা হয় না। ১৫ দিন আগে শুরু হওয়া এবারের টুর্নামেন্টে স্থানীয় কলেজ, হাইস্কুল, মাদরাসা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের বিভিন্ন দল অংশ নেয়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

খেলার আয়োজক কমিটির সদস্য মাহবুব জানান, শুরু থেকেই লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মারুফ আলী দাবি জানিয়ে আসছিলেন- ফাইনাল খেলায় লালপুরের সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মলামকে প্রধান অতিথি করতে হবে। পাশাপাশি নিজেকে বিশেষ অতিথি করার দাবি তোলেন তিনি। কিন্তু আয়োজক কমিটি স্থানীয় ঐতিহ্য বজায় রেখে সেই দাবিতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি।

এরই জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে মারুফ আলী আইন অমান্য করে নিজস্ব উদ্যোগে মাইক ভাড়া করেন। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে পুরো গ্রামে মাইকিং করে রটিয়ে দেন যে, খেলার মাঠে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং সেখানে কেউ খেলতে পারবে না। ভুয়া ঘোষণার পর খেলা বন্ধ হয়ে যায় এবং গ্রামজুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে পুলিশ উপস্থিত হয়।

গ্রাম প্রধান আজিজুর রহমান জানান, মারুফের ভিত্তিহীন ঘোষণার কারণেই সুন্দর পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে। আরেক গ্রাম প্রধান আবুল কালাম আজাদ বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া কেউ ১৪৪ ধারা জারি করতে পারেন না। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা মারুফ আলী ১৪৪ ধারা জারির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মলাম জানান, তিনি কোনো অনুষ্ঠানে অতিথি হওয়ার জন্য মারুফকে কিছুই বলেননি। বিষয়টি জানতে পেরে মারুফকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে স্বীকার করে যে তার ভুল হয়েছে।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Link copied!