ঈশ্বরগঞ্জে ১১১ স্কুল অরক্ষিত, বাড়ছে চুরির আতঙ্ক

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম

ঈশ্বরগঞ্জে ১১১ স্কুল অরক্ষিত, বাড়ছে চুরির আতঙ্ক

ফাইল ফটো

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১১টিতে নৈশপ্রহরী কাম দফতরি না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শিক্ষকরা। ইতোমধ্যে কয়েকটি বিদ্যালয়ে চুরি ও চুরির চেষ্টা হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে প্রথম ধাপে ৩০টি বিদ্যালয়ে ৩০ জন দফতরি কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন জটিলতার কারণে আর নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে একজন চাকরি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। লোকবল সংকটের কারণে দুজনকে ডেপুটেশনে নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি দক্ষিণ চরআলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরজার তালা কেটে চুরি, চরজিতর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে রাউটার চুরি এবং বিল রাউল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গ্রিল কাটার চেষ্টা হয়েছে। ধামদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিরিবিলি এলাকায় থাকা বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা বেশি আতঙ্কে রয়েছেন। অনেক শিক্ষক রাতেও বিদ্যালয়ের খোঁজ নিচ্ছেন।

বর্তমানে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের খাবার, ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, রাউটার, সাউন্ড বক্স, আইপিএস, মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জামসহ ৭৫ ইঞ্চির ইন্টারঅ্যাকটিভ ফ্ল্যাট প্যানেল রয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনেক ধরনের মালামাল রয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় বলা যায় রাতের বেলায় এসব মালামাল প্রায় অরক্ষিত অবস্থায় থাকে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালে কিছু প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তখন বিভিন্ন সমস্যার কারণে সব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আপাতত এই পদে নিয়োগ দেওয়া সারা দেশেই বন্ধ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাঝে আলোচনা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা আসলেই এসব পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব।

৩১ নং ছোট রাঘবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হজরত আলী বলেন, আমরা স্কুলে রক্ষিত মালামাল নিয়ে আতঙ্কে থাকি। রাতের বেলায় কখন মালামাল চুরি হয়ে যায় বলা মুশকিল। শুধু মালামাল পাহারা নয়, উপজেলা অফিসে যেকোনো প্রয়োজনে তাদের পাঠানো সম্ভব। লোক না থাকায় প্রধান শিক্ষক অথবা সহকারী শিক্ষককে ক্লাস ফেলে রেখে উপজেলা অফিসে যেতে হয়। এই পদে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

Link copied!