বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাবধান করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, মানুষ আপনাদের ভালোবেসে ভোট দিয়েছে, একজন মানুষও যেন কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হয়। আমার দল বিএনপি দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনে কাজ করছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা ডাকবাংলো চত্বরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহমেদ আযম খান এসব কথা বলেন।
আহমেদ আযম খান বলেন, বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবার দেশের মানুষ স্বস্তিতে জীবন-যাপন করেছে, গণতান্ত্রিক সমাজে বসবাস করেছে, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার আগে দেশে দুর্ভিক্ষ ছিল। চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের কথা আমরা ভুলি নাই, তখন মানুষ-কুকুর একসঙ্গে খাবার খেত। সেই দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করেছিলেন। তাঁর তিন বছরের শাসনামলকে স্বর্ণযুগ বলা হতো।
সারাদিন গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপজেলা ও পৌর শহরের বিভিন্ন ইউনিয়ন / ওয়ার্ড থেকে শত শত দলীয় নেতা-কর্মীদের রংবেরঙের ব্যানার ফেস্টুন হাতে নিয়ে, বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে ডাকবাংলো মাঠে সমাবেশস্থলে জড়ো হন। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মাঝেও ডাকবাংলো মাঠটি কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়েও উপজেলা সড়ক ভর্তি দলীয় নেতা-কর্মীদের উপচে পড়া ভীর ছিলো লক্ষ্যণীয়। বিশেষ করে নারীদের উপস্থিতি ছিলো স্বরণীয় পর্যায়ে।
সখীপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন মাষ্টারের সভাপতিত্বে সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম মাস্টার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কবির হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক সিকদার মুহাম্মদ সবুর রেজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনসহ উপজেলা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর আবুল হাশেম আজাদসহ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন বিএনপি,অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সারাদিনের কর্মসূচী হিসেবে,দিনের শুরুতেই স্থানীয় বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মরহুমা দেশমাতা বেগম খালেদাজিয়ার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন,বিশেষ দোয়া মাহফিল ও পৌর শহরের বিভিন্ন রাস্তায় শোভাযাত্রা প্রদর্শন করা হয়। এর পর সন্ধ্যায় বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী হারুন মাহমুদ কিশোরের লেখা কথা ও সুরে মাননীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এড আহমেদ আযম খানকে নিয়ে একটি চমকপ্রদ গানের সাথে নৃত্য পরিবেশ করেন শিশু নৃত্য শিল্পীরা।

আপনার মতামত লিখুন :