পদ নয়, মানুষের ভালোবাসা যার পরিচয়

নিউজ ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:২৯ পিএম

পদ নয়, মানুষের ভালোবাসা যার পরিচয়

ফাইল ফটো

স্বাধীন চৌধুরী কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক 

কোনো পদ, পরিচয় কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা একজন মানুষকে মানুষের কাছে আপন করে তোলে না। মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো, তার প্রয়োজনের কথা শোনা এবং নিজের সামর্থ্য দিয়ে তার জীবনে কিছুটা পরিবর্তন আনার চেষ্টা—শেষ পর্যন্ত এসবই হয়ে ওঠে একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয়।

শেরপুরের রাজিয়া সামাদ ডালিয়ার জীবন যেন সেই সত্যেরই এক দীর্ঘ উদাহরণ। শিক্ষা, চিকিৎসা, নারী উন্নয়ন, শিশুদের কল্যাণ, রক্তদান, পরিবেশ, সংস্কৃতি ও নাগরিক উদ্যোগ—সমাজের নানা ক্ষেত্রে কয়েক দশক ধরে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি। প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে ব্যক্তিগতভাবেও দাঁড়িয়েছেন তিনি। এ কারণেই শেরপুরের মানুষের কাছে তিনি কেবল রাজিয়া সামাদ ডালিয়া নন; আপনজনের মতো পরিচিত—‘ডালিয়া আপা’ নামে।

এক অভিজাত পরিবারে রাজিয়া সামাদ ডালিয়ার জন্ম ১৯৪৩ সালের ১ ডিসেম্বর শেরপুর শহরের খরমপুর এলাকায়। তাঁর বাবা খানবাহাদুর ফজলুর রহমান, মা লুৎফুন্নেছা। ১১ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মধ্যম। চট্টগ্রাম মহিলা কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৬৪ সালের অক্টোবরে তাঁর বিয়ে হয় সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুস সামাদের সঙ্গে। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। 

১৯৮১ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর জীবনের গতিপথে আসে বড় পরিবর্তন। ১৯৮৩ সালে ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। প্রায় সাত বছর শিক্ষকতার পর ১৯৯০ সালে ঢাকার স্বচ্ছন্দ জীবন ছেড়ে ফিরে আসেন নিজের শহর শেরপুরে। শেরপুরে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়—যে অধ্যায়ের কেন্দ্রে ছিল নিজের জীবন নয়, মানুষের জীবন।

ব্যক্তিগত সহায়তা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক মানবসেবা

শেরপুরে ফিরে রাজিয়া সামাদ ডালিয়া ধীরে ধীরে নিজেকে যুক্ত করেন মানুষের নানা প্রয়োজনের সঙ্গে। শিক্ষা, চিকিৎসা, নারী উন্নয়ন, শিশুদের ভবিষ্যৎ, পরিবেশ, সংস্কৃতি ও রক্তদান—বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর কর্মকাণ্ড বিস্তৃত হতে থাকে।

সদর উপজেলার ফটিয়ামারীতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘উপমা’ বিদ্যালয়। শহরের সজবরখিলা এলাকায় গড়ে তোলেন ‘উপমা হাসপাতাল’। সমাজসেবায় নিজের সঞ্চয় ও পারিবারিক সম্পদের অংশই তিনি ব্যয় করেছেন।

তাঁর সমাজসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি শুধু তাৎক্ষণিক সাহায্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং মানুষের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। অর্থাৎ তাঁর মানবসেবা ব্যক্তিগত দানের গণ্ডি পেরিয়ে ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।

শেরপুরের স্বাস্থ্যসেবায় এক দীর্ঘ অধ্যায়

শেরপুরের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে রাজিয়া সামাদ ডালিয়ার নাম দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। মানুষের প্রয়োজনেই তিনি ডায়াবেটিস হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। পরে হৃদরোগীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ তৈরিতেও হাত দেন। তাঁর উদ্যোগে ডায়াবেটিস হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং হার্ট ফাউন্ডেশনের কাজ শুরুর কথাও আমরা জেনেছি।

দুস্থ রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় ওষুধ বা ইনসুলিনের ব্যবস্থা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পৌঁছে দেওয়া কিংবা রক্তের ব্যবস্থা—মানুষের প্রয়োজনের মুহূর্তে নানা উপায়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্যসেবা তাঁর কাছে কেবল চিকিৎসা দেওয়ার বিষয় নয়; এটি মানুষের প্রতি সামাজিক ও মানবিক দায়িত্বেরও অংশ। সংগঠন ‘উজ্জয়িনী’র ব্যবস্থাপনায় এবং বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় শেরপুরে নামমাত্র মূল্যে চোখের চিকিৎসা ও ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থাও হয়েছে।

নারীকে শুধু সাহায্য করা নয়, স্বাবলম্বী করার চেষ্টা

নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজিয়া সামাদ ডালিয়ার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। শেরপুরের নারীদের সংগঠিত করে তিনি গড়ে তোলেন ‘উজ্জয়িনী’ মহিলা সংগঠন। সংগঠনটির মাধ্যমে নারীদের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার পাশাপাশি নকশিকাঁথা তৈরির প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়। প্রায় ৫০০ নারীর প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও তাঁদের অনেকে স্বাবলম্বী করে তুলবার ক্ষেত্রে  রেখেছেন বিশেষ অবদান।

তাঁর কর্মকাণ্ডের দর্শন সহজ—কাউকে শুধু সাহায্য করলে সে সাহায্যনির্ভর হয়ে থাকতে পারে; কিন্তু তাকে কাজ শেখানো গেলে সে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়।

নারীর ক্ষমতায়নের এই বাস্তবভিত্তিক চিন্তাই তাঁকে কেবল ত্রাণ বা আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। নারীদের দক্ষতা অর্জন, আয় করার সুযোগ এবং আত্মনির্ভরতার পথ তৈরির ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

শিশুদের জন্য মমতার আলাদা জগৎ

রাজিয়া সামাদ ডালিয়ার মানবিক কর্মকাণ্ডের সবচেয়ে কোমল অধ্যায় শিশুদের নিয়ে। ছিন্নমূল ও দরিদ্র শিশুদের পড়াশোনার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় ‘রাজিয়া সামাদ ডালিয়া শিশু ফাউন্ডেশন’ কার্যক্রম শুরু করে। ২০২০ সালে শেরপুরের ভাতলাশা বয়ড়াপরানপুর এলাকায় শিশুদের পাঠদানের মধ্য দিয়ে এর কার্যক্রমের সূচনা হয়।

নিজের বাড়িতে এতিম ও অসহায় শিশুদের থাকা ও লেখাপড়ার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। রাস্তায় পাওয়া দুই কন্যাশিশুকে নিজের পরিচয়ে বড় করে তুলেছেন; তাঁদের একজন পরবর্তীকালে ভূমি জরিপ কর্মকর্তা হয়েছেন। এখানে ‘সমাজসেবা’ শব্দটির প্রচলিত অর্থও যেন কিছুটা ছোট হয়ে যায়। কোনো অসহায় শিশুর শিক্ষা ও বেড়ে ওঠার দায়িত্ব নিজের জীবনের অংশ করে নেওয়া নিছক দান নয়; যা মমতা, দায়িত্ববোধ এবং অভিভাবকত্বের প্রকাশ।

হৃদরোগীদের জন্য স্বপ্ন

ডায়াবেটিস চিকিৎসার পাশাপাশি হৃদরোগীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শেরপুরে বাবার কবরের পাশে হার্ট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। নিজের পারিবারিক স্মৃতি ও শিকড়কে মানুষের কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করার এই প্রবণতা তাঁর জীবনদর্শনের একটি বিশেষ দিক।

রক্তের প্রয়োজনে মানুষের পাশে

রক্তের প্রয়োজন হলে রক্তদাতার সন্ধান করা, দরিদ্র রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা কিংবা অসহায় মানুষের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা—এসব কাজে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত তিনি।

রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন রাজিয়া সামাদ ডালিয়া। সংগঠনটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। 

রক্তের প্রয়োজনের মুহূর্তে দ্রুত রক্তদাতা খুঁজে দেওয়া অনেক সময় জীবন-মৃত্যুর ব্যবধান তৈরি করতে পারে। এই জায়গাটিকে তিনি মানবসেবার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে নিয়েছেন।

রক্তসৈনিকের বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যেও তাঁর নেতৃত্বে মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।  এছাড়া শীতবস্ত্র বিতরণ থেকে শুরু করে এতিম শিশুদের জন্য বিভিন্ন আয়োজনেও সংগঠনটির সম্পৃক্ততা দেখা যায়।

করোনাকালে মানুষের পাশে

করোনাভাইরাস মহামারির সময় যখন সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, নিম্নআয়ের মানুষের ঘরে দেখা দেয় খাদ্যসংকট, তখন রাজিয়া সামাদ ডালিয়া মানবিক সহায়তার বিভিন্ন উদ্যোগে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন।সামাজিক নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা সুসময় নয়, দুঃসময়। সংকটের সময়ে মানুষ কতটা মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে, তার মধ্যেই মানবিক নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন হয়। রাজিয়া সামাদ ডালিয়া তেমনই একজন।

গাছ, ফুল আর ‘আনন্দধাম’

মানবসেবার ব্যস্ত জীবনের পাশাপাশি রাজিয়া সামাদ ডালিয়ার আরেকটি পরিচয়—তিনি প্রকৃতিপ্রেমী। শেরপুর শহরের দুর্গানারায়ণপুরে তাঁর বাড়ি ‘আনন্দধাম’। সেখানে গড়ে তুলেছেন ফুল ও বিভিন্ন গাছের বাগান। অবসর সময়ে বাগানের পরিচর্যা এবং বই পড়া তাঁর প্রিয় কাজ।

প্রকৃতির প্রতি তাঁর এই ভালোবাসার স্বীকৃতিও পেয়েছেন। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন সিটি ব্যাংক–তরুপল্লব ‘দ্বিজেন শর্মা নিসর্গ পুরস্কার-২০২১’। এই পুরস্কারের অর্থের বিষয়টিও ছিল ব্যতিক্রমী। পুরস্কার গ্রহণের পর অর্থ নিজের কাছে না রেখে তাত্ক্ষণিকভাবে মানুষের জন্য দান করে দিয়েছেন সেই অর্থ। অর্থের চেয়ে সম্মান ও ভালোবাসাকেই বড় করে দেখার এই মানসিকতা তাঁর প্রকৃতিপ্রেমের সঙ্গে মানবিক দর্শনেরও একটি সুন্দর সংযোগ তৈরি করে।

সংস্কৃতি ও নাগরিক সমাজে সক্রিয়তা

রাজিয়া সামাদ ডালিয়ার কর্মকাণ্ড স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়। শেরপুরের সাংস্কৃতিক ও নাগরিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তাঁর সম্পৃক্ততা। তিনি রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন উদ্যোগ, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন।

শেরপুর জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবেও তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ফলে তাঁর সামাজিক পরিচয় বহুমাত্রিক— সমাজকর্মী, নারী সংগঠক, স্বাস্থ্যসেবার উদ্যোক্তা, মানবিক কর্মী, পরিবেশপ্রেমী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক।

পদ নয়, মানুষের ভালোবাসাই তাঁর পরিচয়

রাজিয়া সামাদ ডালিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি কোনো রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পদ নয়। তিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নন, ক্ষমতার রাজনীতির কেন্দ্রেও নেই। তবু শেরপুরে তাঁর একটি স্বতন্ত্র সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। এর কারণ, তিনি মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে থেকেছেন। দরিদ্র রোগীরা তাঁর কাছ থেকে পেয়েছেন চিকিৎসা সহায়তা। অসহায় নারী পেয়েছেন কাজ শেখার সুযোগ। দরিদ্র ও ছিন্নমূল শিশু পেয়েছে শিক্ষা ও আশ্রয়ের সুযোগ। রক্তের প্রয়োজনে মানুষ পেয়েছে রক্তদাতার সন্ধান। আর এসব কাজের মধ্য দিয়েই তৈরি হয়েছে এক গভীর সম্পর্ক—যে সম্পর্কের নাম ‘ডালিয়া আপা’।

একজন মানুষের ভেতর একটি শহরের মানবিক মুখ

শেরপুরের ইতিহাসে বহু কৃতী মানুষের নাম লেখা থাকবে। তাঁদের কেউ রাজনীতি করেছেন, কেউ ব্যবসা, কেউ শিক্ষা, কেউ প্রশাসন কিংবা সংস্কৃতিতে অবদান রেখেছেন। রাজিয়া সামাদ ডালিয়ার নামটি হয়তো লেখা থাকবে অন্য এক পরিচয়ে—মানুষের পাশে দাঁড়ানো একজন নারী হিসেবে।

তিনি বিদ্যালয় করেছেন, হাসপাতাল করেছেন, নারীদের কাজ শিখিয়েছেন, শিশুদের আশ্রয় ও শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছেন, রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন, রক্তের সন্ধান করেছেন, গাছ লাগিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষার কাজে যুক্ত হয়েছেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন এবং নাগরিক সমাজের নানা উদ্যোগে ভূমিকা রেখেছেন। এসব প্রতিটি কাজের আলাদা মূল্য আছে। কিন্তু সবকিছুকে এক সুতোয় বাঁধলে যে শব্দটি সামনে আসে, তা হলো—মানুষ।

রাজিয়া সামাদ ডালিয়ার জীবন তাই শুধু একজন সমাজসেবীর জীবনকথা নয়; আমাদের সময়ের জন্য এক নীরব বার্তাও।মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবসময় বড় কোনো পদ লাগে না। লাগে উদার হৃদয়, দায়িত্ববোধ, কিছুটা সময় এবং অন্য মানুষের কষ্টকে নিজের কষ্ট বলে অনুভব করার ক্ষমতা। শেরপুরের মানুষের কাছে ‘ডালিয়া আপা’ হয়ে ওঠা রাজিয়া সামাদ ডালিয়ার দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো এখানেই—তিনি মানুষের জন্য কাজ করেছেন, আর বিনিময়ে অর্জন করেছেন মানুষের ভালোবাসা।  এই ভালোবাসা কোনো পুরস্কার বা পদকের চেয়ে মহামূল্যবান এবং দীর্ঘস্থায়ী।

সেই ভালোবাসার নাম—ডালিয়া আপা।

 

লেখকঃ মুখ্য সমন্বয়ক, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব।

Link copied!