বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
গাজীপুরের শ্রীপুরে কর্তব্যরত দুই পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেপ্তাররা হলেন ডাকাত দলের প্রধান মো. ইসমাইল সরদার ওরফে লিটন (৩৮), সহযোগী মো. কামরুল মিয়া (২০) ও মো. হানিফ ওরফে মাস্টার (৪০)। বৃহস্পতিবার (০৭ মার্চ) রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (০৮ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামিরা সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্র। তাদের দলের সদস্য সংখ্যা আট থেকে ১০ জন। ইসমাইল এ ডাকাত চক্রটির প্রধান এবং হানিফ তার অন্যতম সহযোগী। তারা রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসা-বাড়ি ও দোকান ডাকাতির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। এছাড়াও ডাকাত দলটি দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে বিভিন্ন বালুর বাল্কহেডে ডাকাতি করত। এছাড়া তারা বিভিন্ন মামলায় কারাভোগের সময় কারাগারে থাকা অন্যান্য আন্তঃজেলা ডাকাতদের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয় এবং সেখানে তাদের কাছ থেকে ডাকাতির বিষয়ে বিভিন্ন কৌশল শিখে নিতেন। পরে তারা জামিনে বের হয়ে রপ্ত করা কৌশল ব্যবহার করে ডাকাতি করে আসছিলেন।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, ডাকাত চক্রটি গত ৩ মার্চ রাতে গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা-কালিয়াকৈর আঞ্চলিক সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে ডাকাতির সময় গাজীপুরের শ্রীপুর থানার টহলরত পুলিশ সদস্যদের ওপর দেশিয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে তাদের কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তিনি জানান, দলের প্রধান ইসমাইল ও তার সহযোগী হানিফসহ ছয় থেকে সাতজন ডাকাতির উদ্দেশ্যে গত ৩ মার্চ দুপুরে কেরানীগঞ্জ থেকে একটি পিকআপভ্যানযোগে গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায় যান। সেখানে শ্রীপুরের মাওনা এলাকায় সন্ধ্যা থেকে ডাকাতির জন্য সুবিধাজনক স্থান পরিদর্শন করতে থাকেন। ওইদিন রাতেই শ্রীপুরের মাওনা-কালিয়াকৈর আঞ্চলিক সড়কের সিংগারদিঘীর হাসিখালী ব্রিজ এলাকায় রাস্তার ওপর গাছের গুড়ি ফেলে দেশিয় অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে গণডাকাতি শুরু করেন।
কমান্ডার মঈন জানান, গাজীপুরের শ্রীপুর থানা পুলিশ ডাকাতির সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডাকাত দলের সদস্যরা পুলিশ সদস্যদের ওপর দেশিয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। এ সময় কনস্টেবল রুহুল আমিনের মাথায় এবং কনস্টেবল সেলিম মিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা থেকে পুলিশের আরেকটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় তাদের এক সদস্য রুবেল চলন্ত গাড়ির সঙ্গে দুর্ঘটনায় আহত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
গ্রেপ্তার ইসমাইল ১০ থেকে ১২ বছর ধরে একটি কেমিক্যাল কোম্পানির মালামাল রাজধানীর মিটফোর্ড মার্কেটে সরবরাহ করতেন। তিনি ২০১৮ সালে কেরানীগঞ্জ এলাকার এক ডাকাত সদস্যের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে তিনি ওই মার্কেটে কেমিক্যাল সরবরাহের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় কেরানীগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় ডাকাতি শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেই একটি ডাকাত চক্র গড়ে তোলার জন্য কেমিক্যাল সরবরাহের কাজ ছেড়ে দেন। এ সময় তিনি ডাকাতির কার্যক্রমে সুবিধার জন্য ছদ্মবেশে ইজিবাইক চালানো শুরু করেন। ডাকাত সরদার ইসমাইলের বিরুদ্ধে ঢাকার দোহার, কেরানীগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে ডাকাতি সংক্রান্ত চারটি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তিনি এক বছরের বেশি সময় কারাভোগ করেছেন। ইতোপূর্বে তার নেতৃত্বে ২০২৩ সালে ফরিদপুরে বেশ কয়েকটি স্বর্ণের দোকান ডাকাতির ঘটনা ঘটে। তিনি এই মামলায় সাত মাস কারাভোগ করে গত মাসে জামিনে বের হয়ে আবারও ডাকাতি কার্যক্রম করতে থাকেন।