ফুলগাজী প্রতিনিধি :
চীনের দুঃখ হোয়াংহো নদী আর ফুলগাজীবাসীর দুঃখ মুহুরী নদী। বর্ষা মৌসুম মানেই ফুলগাজীতে নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙ্গন। আর বেড়িবাঁধ ভাঙ্গন মানেই ফুলগাজি বাসীর কপালে বন্যা কবলিত হয়ে দুর্দশা ছাড়া আর কিছু নেই। এটাই তাদের নিয়তিতে পরিণত হয়েছে।
ভারতীয় উজানের পানিতে মুহুরী নদীর দুটি স্থানে ভেঙ্গে ২ গ্রাম প্লাবিত। এতে ফুলগাজীর উত্তর দৌলতপুর ও দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ফসল, ডুবেছে মানুষের ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের। সোমবার মধ্যরাতে উত্তর দৌলতপুরের বাহার মিয়ার সেচ পাম্পের পাশে এবং দক্ষিণ দৌলতপুরের প্রথমাংশে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারকি না থাকায় প্রতিবছর বাঁধ ভাঙ্গে দুই থেকে তিন বার। তাদের দাবী ত্রাণ নয় চান টেকসই বাঁধ।
স্থানীয়রা বলছেন, এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো মুহুরী নদীর বেরিবাদের দুটি স্থানে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। মাস তিনেক আগেও গ্রামের একাধিক স্থানে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে প্রতিবছর দুই থেকে তিনবার ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। কখনো কখনো একই স্থানে একাধিকবার ভাঙ্গন দেখা দেয়।
তাদের অভিযোগ বাঁধ নির্মাণের ১৭/১৮ বছর হয়ে গেলও সঠিক মেরামত হয় না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে ভাঙ্গন স্থানগুলোর মেরামত কাজও হয় নামমাত্র। প্রতিবছরই বেড়িবাঁধে ভাঙ্গন দেখা দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাদ্দের নামে পকেট বাণিজ্য আর বরাদ্দ বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকে। লক্ষ লক্ষ টাকা বরাদ্দ নিয়ে বরাদ্দের সামান্য অংশ দিয়ে নামমাত্র কাজ করার কারণে প্রতিবছর আবারও একই স্থানে বেড়িবাঁধের ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়।
আব্দুর রহিম জানান, গত তিনমাস আগে ভেঙে যাওয়া বেরিবাধ শুধুমাত্র বালি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে ভারতীয় উজানের পানিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেই ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়। নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে যে কোন মুহূর্তে এই স্থানটিতে আবারও ভাঙ্গনের দেখা দিতে পারে। সঠিক তদারকির অভাবে সরকারি বরাদ্দের নামমাত্র কাজ করার কারণে বারবার একই স্থানে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়।
আবদুল ওহাব জানান, হাজার হাজার মানুষের কষ্টের ফসল পানিতে ডুবে গেছে। অনাবৃষ্টির কারণে অনেক কষ্ট করে আমরা ফসল রোপণ করেছি, কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের পিছু ছাড়েনি। প্রতিবছর ভারতীয় উজানের পানিতে আমাদের বন্যার কবলে পড়তে হয়, আমরা এর থেকে মুক্তি চাই। কৃষি বিভাগ বলছে প্রায় ৫০ হেক্টর জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যদি ২/৩ দিনের বেশি পানি থাকে তবে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয়দের দাবী, ভাঙ্গনে স্থানগুলো মেরামতের নামে টাকা লুটপাট করে ঠিকাদার। ভাঙ্গন স্থানগুলো দ্রুত মেরামত করার দাবি অনুরোধ করেন তারা। প্রতিবছরই এমন দুর্ভোগ আর চায়না স্থানীয় জনগণ। তারা বলছেন আর নয় বরাদ্দ বাণিজ্য আর নয় পকেট বাণিজ্য, চাই না ভিক্ষাবৃত্তির ত্রান সহযোগিতা চাই বেড়িবাঁধ ভাঙ্গনের স্থায়ী সমাধান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, একটি উন্নয়ন প্রকল্প পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে সাবমিট করা হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ে সমীক্ষা প্রকল্পটি যাচাই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এ ধরনের সমস্যা আর থাকবে না।