মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

অপমানের প্রতিশোধ নিতে নয় বছরের শিশুকে অপহরণ করে হত্যা, খুনি গ্রেফতার 

অপমানের প্রতিশোধ নিতে নয় বছরের শিশুকে অপহরণ করে হত্যা, খুনি গ্রেফতার 

মোঃ আসাদুজ্জামান তুহিন,গাজীপুর
 অপহরণের ২ দিন পর যমুনা নদীর বালুচর থেকে ৯ বছর বয়সী কুরআনে হাফেজের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম তামজিদ। সে টঙ্গী পশ্চিম থানার সাতাইশ মুকাদ্দামাতুল হিফজ মাদ্রাসার ২৫ পারা হিফজ করা ছাত্র। লাশ উদ্ধারের পর রোববার বিকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের কর্মকর্তারা গাছা থানায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। ঘটনার মূল হোতা সোহাগকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আসামী সোহাগ টঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার তেপাড়িয়া গ্রামের মাখন মিয়ার ছেলে।
জিএমপি অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাহবুব-উজ-জামান জানান, আসামী সোহাগ নগরীর গাছা থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুনিয়া পাছর এলাকার লতিফ সরকারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সম্প্রতি সোহাগের স্ত্রী লতিফ সরকারের ঘর থেকে থ্রীপিচ চুরি করে ধরা পড়লে তাদেরকে অনেক অপমান সহ্য করতে হয়। এছাড়া বাড়িওয়ালা লতিফ সরকারের স্ত্রীর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে যথাসময়ে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সোহাগ লাঞ্চনার শিকার হন। লাঞ্চনার জেরে প্রতিশোধ নিতে    শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় ভাড়ীর মালিকের ছেলে তামজিদকে বেড়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। এর পর থেকে তাদের কোনো হদিস না পেয়ে তামজিদের পিতা লতিফ সরকার শনিবার গাছা থানায় অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
এর পর গাছা থানা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে টাঙ্গাইলের নাগরপুর এলাকায় সোহাগের অবস্থান চিহ্নিত করে অভিযান চালায়। সেখানে গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তামজিদকে হত্যা করে যমুনা নদীর বালুচরে লাশ লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করে। পরে সোহাগকে সাথে নিয়ে পুলিশ সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালি থানাধীন চৌদ্দরশি গ্রামের পশ্চিম দিকে যমুনা বালুর চরে খাস কাউলিয়া মৌজার খাসজমির শস্যক্ষেতের পাশে নির্জন চরের মধ্যে বালুর নিচ হতে রোববার সকাল ১০টায় পুলিশ  এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে  ভিকটিম তামজিদের লাশ উদ্ধার করে। তামজিদকে প্রথমে এক হাতে মুখ চেপে ধরে অন্য হাতে গলায় চাপ দিয়ে ধরে শ্বাসরোধের পর গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর গায়ের জামাকাপড় ও জুতা খুলে বালুরচরে আলাদা  গর্ত খুঁড়ে লাশ ও জামাকাপড়  লুকিয়ে রাখার কথা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে।
এদিকে তামজিদের বাবা লতিফ সরকার জানান, সোহাগের বড় বোন প্রায় চার বছর যাবত তার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। সোহাগ প্রায় দুই মাস আগে বিবাহ করে এবং নববধূকে নিয়ে তার বাড়িতে পৃথক রুম ভাড়া থাকেন। সম্প্রতি লতিফ সরকারের স্ত্রীর ৬/৭টি থ্রীপিচ চুরি হয়। পরে সেসব থ্রীপিচ সোহাগের রুমে চাউলের ড্রামের ভেতর পাওয়া যায়। এতে সোহাগের স্ত্রী চোর সাব্যস্ত হলে বাড়ির লোকসহ আশেপাশের প্রায় সকলেই সোহাগ ও তার স্ত্রীকে চুন্নি, সোহাগকে চুন্নির জামাই  বলে ডাকত। এ ঘটনার জেরে প্রতিশোধ নিতেই তার ছেলেকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |