মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন
শাহাদুল ইসলাম সাজু :
জয়পুরহাট শহরের মাড়োয়ারি পট্টিতে মন্দির সংলগ্ন নিজ বাসায় চাঞ্চল্যকর মাড়োয়ারি দম্পতির হত্যা মামলার ৪ বছর পার হওয়ার পরে সোমবার গ্রেফতার হওয়া আসামী এবিএম মাহবুবুল আলম এই মার্ডারের সঙ্গে জড়িত বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বিকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডির) পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করলে আসামী এবিএম মাহবুবুল আলম ১৬৪ ধারায় স্বিকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল্লাহ্ আল মামুন আসামী এবিএম মাহবুবুল আলমের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। কি কারনে ওই মাড়োয়ারি দম্পতি খুন হলেন বা কারা জড়িত রয়েছেন মামলার তদন্তের সার্থে এসব বলতে রাজি হয়নি সিআইডি। এবিএম মাহবুবুল আলম জয়পুরহাট শহরের ধানমান্ড মহল্লার মোশারফ হোসেনের ছেলে। জয়পুরহাট থানা পুলিশ চেক জালিয়াতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হিসেবে মাহবুবুল আলমকে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রোববার গাইবান্ধা জেলার ফাঁসিতলা নামক এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হলে সিআইডির পক্ষ থেকে মাহবুবুল আলমকে মাড়োয়ারি দম্পতি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করলে আদালত অনুমোদন দেয়। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জয়পুরহাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাতের কোন এক সময় জয়পুরহাট শহরের মাড়োয়ারি পট্টিতে মন্দির সংলগ্ন নিজ বাসায় মাড়োয়ারি দম্পতি কিষান লাল রুংটা ও তার স্ত্রী দেবী রুংটা খুন হন।
এ সময় ছেলে বিক্কি কুমার রুংটা ও মেয়ে পায়েল রুংটা ভারতে ছিলেন। হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে ছেলে ও মেয়ে ঊভয়ে ২২ ডিসেম্বর দেশে ফিরে বিক্কি কুমার রুংটা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে জয়পুরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ খুনের ঘটনায় সিরাজগঞ্জ থেকে আগত সিআইডির ক্রাইস সিন ইউনিটের সদস্যরা নানা তথ্য উপাত্য ও আলামত সংগ্রহও করেছিলেন। মামলার ছয় মাস পার হওয়ার পরেও কোন অগ্রগতি না হওয়ায় বিক্কি কুমারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ১১ মে’ ২০১৯ মামলাটি সিআইডির নিকট হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করে আসছে বলে জানান, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জয়পুরহাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ।