মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন

শরীয়তপুরে এক আঙ্গুল দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে এক ছাত্রী

শরীয়তপুরে এক আঙ্গুল দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে এক ছাত্রী

শরীয়তপুরে এক আঙ্গুল দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে এক ছাত্রী

মোঃ হৃদয় মোল্লা, শরীয়তপুর প্রতিনিধি : দুই হাতে মাত্র একটি আঙ্গুল নিয়ে জন্ম নেয়া নিপা আক্তার এবার আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছেন। যাদের হাতে সব আঙ্গুল আছে তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে কোনো রকম শ্রুতি লেখকের সাহায্য ছাড়াই পরীক্ষা দিচ্ছে এই শিক্ষার্থী। তার স্বপ্ন বড় হয়ে শিক্ষক হওয়া এবং প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ানো। আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও নিপা’র পরিবার সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চর কারাভোগ গ্রামের দিন মজুর বিল্লাল হোসেন মোল্লা ও নাছিমা বেগমের ছোট মেয়ে নিপা আক্তার। জন্মের পর তার হাতে নয় আঙ্গুল না থাকলেও থেমে যায়নি তার পড়ালেখা। এক আঙ্গুল দিয়ে চালাতে পারেন মোবাইল ও সংসারের যাবতীয় কাজ। সহযোগিতা করেন মা ও বোনকে। নিপার স্বপ্ন পড়ালেখা করে হবেন একজন আদর্শ শিক্ষক। ভালো পড়ালেখা করে দাঁড়াতে চান প্রতিবন্ধীদের পাশে। এজন্য যত প্রতিবন্ধকতা আসুক সব উতরে যেতে চান লক্ষে। দেখিয়ে দিতে চান ইচ্ছের কাছে বাঁধা নয় শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। পরীক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন নিয়ম অনুযায়ী সব সুবিধা পাচ্ছে নিপা। এবারও সে ভালো ফল করবে বলে আসা তাদের। সে পিএসসি ও জেএসসিতেও ভাল রেজাল্ট করেছে।

এসএসসি পরীক্ষার্থী নিপা আক্তার বলেন, প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে আমি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। আমার হাতে নয়টি আঙ্গুল নেই, একটি আঙ্গুল আছে। একটি আঙ্গুল দিয়ে আমি ছোট বেলা থেকে পড়াশোনা করছি। আপনারা দোয়া করবেন আমি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় যেন ভালো রেজাল্ট করতে পারি। ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পরে একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চাই। প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে চাই। আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিত কুমার সাহা বলেন, নিপার বাম হাত নেই এবং ডান হাতে মাত্র একটি আঙ্গুল। নিপা একটি আঙ্গুলের ওপর ভর করে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করছি। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে কিন্তু নিপাকে বৃত্তির ব্যবস্থা করেছি। নিপার উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করি। জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান বলেন, প্রথাগত সমাজ কাঠামোর চোখে যারা পিছিয়ে পড়া মানুষ, তারা এখন আর পিছিয়ে নেই। আর দশটি সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের কাধে কাধ মিলিয়ে তারা নিজেকে সংযুক্ত করেছেন উন্নয়নের ধারায় ঠিক স্বাভাবিক মানুষের মতো করেই।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |