বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন
মো. আব্দুল মান্নান, ময়মনসিংহ:
মো. নিরব চৌধুরী নয়ন (৩০) নামে এক চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানা পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এসকে হাসপাতালের পিছনে তার বাসার সামনে অপরাধজনক কর্মকাণ্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে অবস্থান করাকালীন ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, নয়ন একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। ইতোপূর্বে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি বর্ষণ করে সে কয়েকজনকে আহত করেছে। সে ময়মনসিংহ কালিবাড়ী এলাকার মৃত
হাবিবুর রহমানের ছেলে। এসকে হাসপাতালের পিছনে সে বড় ধরনের অপরাধজনক কর্মকাণ্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা, পিপিএম তাকে গ্রেফতার করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহীনুল ইসলাম ফকিরকে দায়িত্ব দেন। পরে শাহীনুল ইসলাম ফকিরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম (বার) -এর নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) দেবাশীষ সাহা, এসআই (নিঃ) মনিতোষ মজুমদার ও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযানে নামেন। অভিযানে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন কালীবাড়ী এলাকায় এসকে হাসপাতালের পিছন থেকে আসামী মো. নিরব চৌধুরী নয়নকে আটক করা হয়। এসময় ধৃত আসামীকে তার ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র সম্পর্কে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আসামীর দেখানো মতে কালীবাড়ী এলাকায় এসকে হাসপাতালের পিছনে তার বাসার সামনে পরিত্যক্ত মুরগির খোয়ারের মধ্য হতে একটি ছোট শপিং ব্যাগে মোড়ানো ১টি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন ও ১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আসামীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামীকে গ্রেফতারের পর এলাকায় জনমনে স্বস্তি ফিরে
এসেছে বলে স্থানীয়রা জানায়। এ আসামীর বিরুদ্ধে এছাড়াও একাধিক মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন আছে। পুলিশ জানায়, আসামী মো. নিরব চৌধুরী নয়নের নামে কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং-৫৯, কোতোয়ালী মডেল থানায় আরেকটি মামলা যার নং-১৯, আরেকটি মামলা নং-১০, আরেকটি মামলা নং-৫১, আরেকটি মামলা নং-৩৬ ও একই থানায় আরেকটি মামলা রয়েছে যার নং-৪৫। বিভিন্ন ধারায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় তার নামে ৬টি মামলা রয়েছে। সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত নয়ন ২০২২ সনের ১০ জুলাই জেসিগুহ রোডের বাদশা মিঞাকে গুলি করেছিল। পরে তার পেটের বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হয়। এই গুলিবিদ্ধের ঘটনায কোতোয়ালী থানায় মামলা হয়েছিল। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারি অপরাধে ২০২১ সনে তার নামে আরেকটি মামলা হয়। এছাড়াও ২০০৯ সন থেকে ২০২৩ সন পর্যন্ত তার নামে আরও ৪টি মামলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত মোট ৬টি মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।