মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন
আবুল হাসনাত মিনহাজ, চট্টগ্রাম : বর্তমানে আমাদের দেশে টিকটকে অশ্লীল নাচ, গান, সংলাপ যুবসমাজকে ক্রমান্বয়ে গ্রাস করে ফেলছে। মোবাইলের টিকটকে অপব্যবহারে আজ উপকাররে চাইতে বেশি ক্ষতি হচ্ছে ।আর এর মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলার যুব সমাজ । যুব সমাজ মোবাইলে টিকটক অপব্যবহার করে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে । আমাদের দেশের টিকটকে অনেক গুলো গ্যাং রয়েছে তারা টিকটক করার জন্য নানা জিনিসপত্র কিনতে হয় তারা অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। তারা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, হত্যা ও অপহরণসহ নানা পাপ কাজে লিপ্ত হয়।
আবার কোনো দেশের যুব সম্প্রদায় চরিত্রহীন হওয়া মানে নৈতিক চরিত্রের চূড়ান্ত অধঃপতন। ফেনসিডিল, গাঁজা, আফিম, ভাং ইত্যাদি মাদকদ্রব্য সর্বত্র পাওয়া যায় তাদের মাঝে । আর এ সুযোগ গ্রহণ করে যুবসমাজ ধ্বংস হচ্ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা ও বিশৃংখলা অনেক সময় ছাত্র-ছাত্রীদের বিপথে পরিচালিত করে। গুটিকয়েক সন্ত্রাসী সমস্ত ছাত্র সমাজকে জিম্মি করে রাখে।মোবাইলে টিকটক এটি একটি বিনোদন। তবে এত কিছুর পরেও এটিকেই আমরা বলছি ‘ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি’। আর এটিই বাস্তবতা।
বর্তমান সময়টা তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। তথ্যপ্রযুক্তি সবকিছু এনে দিয়েছে আমাদের হাতের মুঠোয়। করে দিয়েছে সব কাজের সুযোগ-সুবিধা। মানুষের বিকল্প এখন আধুনিক প্রযুক্তি। তথ্যপ্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ায় সবার হাতে হাতে নানা ধরনের ডিভাইস রয়েছে। বর্তমান সময়ে এমন তরুন-যুবক খুব দুর্লভ, যার কাছে স্মার্টফোন আছে; কিন্তু এই টিকটক ভিডিও দেখে না।
এটি আমাদের যেমন সাময়িক আনন্দ দিচ্ছে, ঠিক তেমনি কেড়ে নিচ্ছে মহামূল্যবান অনেক কিছু। মারা যাচ্ছে শিশু-কিশোরের সুপ্ত প্রতিভা। চুষে খাচ্ছে মহামূল্যবান সময়। নষ্ট করছে কোটি মানুষের অমূল্য জীবন। শেষ করছে মাতৃভূমির সুনাম ও জশ-খ্যাতি। স্মার্টফোনে টিক টক চলে আসার পর থেকে খেলাধুলা দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে অতীতের ঐতিহ্য খেলাধুলা বা শারীরিক ব্যায়াম।
এখন আর দেখা যায় না স্কুল-মাদ্রাসা ছুটি হলে লাটিম নিয়ে মেতে ওঠা। মার্বেল নিয়ে খেলাধুলা। ঘুড়ি নিয়ে রৌদ্রভরা দুপুরে মাঠে দৌড়ানো। শিশু-কিশোররা আজ মেতে উঠেছে মোবাইল টিকটক নিয়ে। জেগে উঠেছে টিকটক করার নেশা আসক্তিতে। বর্তমান ছাত্র-যুব প্রজন্ম মাঠে গিয়ে খেলার চেয়ে মোবাইল ফোনেই বিভিন্ন ভিডিও খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে।
ফলে তারা ঝুঁকে পড়ছে অশ্লীলতার দিকে। ধাবিত হচ্ছে বিভিন্ন অপকর্মে। জড়িয়ে পড়ছে ধর্ষণ ও মদ্যপানসহ নানা অসঙ্গতিপূর্ণ সামাজিক ব্যাধিতে। মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে মানবতার বদান্যতা থেকে। সরে যাচ্ছে ইসলামের সুশীতল ছায়া থেকে। এভাবেই দিনের পর দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে যুব প্রজন্মের একঝাঁক কিশোর-কিশোরী, ছাত্র-যুবক।টিকটক ভিডিও দেখে প্রতি শিশু-কিশোরদের আগ্রহ নতুন কিছু নয়। তবে আগের তুলনায় এখন শতগুণ বেশি। এতে শিশু সবকিছু নিয়েই উত্তেজিত হয়ে পড়ে।
বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়ে যায়। মেজাজ খিটমিটে হয়ে যায়।চট্টগ্রাম সমাজসেবী শিউলী ফারভীন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজকে বলেন যুবকদের এ অবস্থা দেখে সচেতন মহলকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে যে, টিকটক বর্তমান যুবসমাজকে কোন পথে নিয়ে যাচ্ছে,মাদক যেমন যুবসমাজকে নস্ট করে তার চাইতেও ভয়ংকর রূপে এই টিকটক অ্যাপ যুবসমাজকে ধংস করে দিচ্ছে।এই ধরনের কাজ গুলা থেকে নিজেকে নিজের ছেলে মেয়ের দায়িত্ববান হতে হবে বাবা মায়ের তার পাশাপাশি জনসচেতন হতে হবে।
এই বিষয়ে আলমগীর বলেন আমাদের দেশে শিক্ষার হার কমে যাচ্ছে,দিন দিন অপরাধির সংখ্যা বারতেছে,আমরা কেউ সচেতন নয় বলে এইসব হচ্ছে এই টিকটক অ্যাপ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যেমে অশ্লিল ভিডিও থেকে শুরু করে যা যা করতেছে তা আমার আপনার আমাদের জন্য ক্ষতি হচ্ছে দেশের ক্ষতি হচ্ছে,ছেলে মেয়েরা স্কুল কলেজ না এসে এই সব কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে।তাই আমাদের সচেতন হতে হবে যুব সমাজকে রক্ষা করতে।
দিন দিন যেভাবে শিক্ষার হার কমে যাচ্ছে এই অবস্থা থাকলে অর্থনীতিক ভাবে দেশ ক্ষতির মূখে যাবে।সমাজবীদ ও শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন সর্বনাশা টিকটক এ নেশা থেকে বেরিয়ে আসা অনেকটা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।দেশ, জাতি ও সমাজের উজ্জ্বল নক্ষত্র আজকের যুব বা তরুণসমাজ। কিন্তু তারা যেভাবে টিকটক এ আসক্ত হয়ে পড়ছে, এই নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এর কুপ্রভাবে যেভাবে আমাদের তারুণ্য শক্তি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত, তা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে আমাদের তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।
অ্যাপের কারণে আমাদের নতুন প্রজন্মের বেড়ে উঠা হুমকির মুখে পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপের কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অশ্লীল কন্টেন্ট ও ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওবার্তা, কিশোর গ্যাং অপরাধ,মারামারি প্রতিহিংসা,এমন কি টিকটক এর বিষয়ে খুন করে পেলার খবর ও পাওয়া যায়।
এর ফলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের অসুস্থ মানসিকতা তৈরি হয়। তারা স্বাভাবিক কথা কেউও ব্যঙ্গ করে বলে। এছাড়া এসব একসময় বদভ্যাসে পরিণত হয়।একাধিক মেয়ে নিয়ে জামেলা করা কিশোর গ্যাং ভিডিও করা ।