মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন
মোস্তফা কামাল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যাল : চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। জেলার হাটহাজারী উপজেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১১১ জন। প্রায় প্রতিদিনই মারা যাচ্ছেন কেউ না কেউ। ফলে ঝুঁকিতে উপজেলার অদূরে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস ঝুঁকিতে রয়েছে। এডিস মশার বিস্তার রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি আবাসিক হল ও আশপাশের মেস-কটেজগুলোতে প্রায় ১৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। এসব শিক্ষার্থীর মাঝে ডেঙ্গু আতঙ্ক বিরাজ করছে। আলাওল হলে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন ইসলাম। ২০ জুলাই ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায় যান তিনি। সেখানে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলে ৫ আগস্ট ক্যাম্পাসে ফেরেন। সুমন বলেন, হলে দিনে-রাতে মশার ব্যাপক উপদ্রব দেখা যায়।
আশপাশের ড্রেনের ময়লা পানিতে মশার বংশ বিস্তার হচ্ছে বলে তার ধারণা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ড্রেনগুলোতে জমে আছে পচা পানি। হল ও অনুষদ ভবনের অনেক টয়লেট যত্রতত্র ময়লা পানিতে সয়লাব। আইন অনুষদের পেছনে ও কেন্দ্রীয় মাঠের নিচু জমিতে বৃষ্টির পানি জমে আছে। এ ছাড়া স্টেশন চত্বর, জিরো পয়েন্ট, লেডিস ঝুপড়ি, কলা ঝুপড়িসহ অন্যান্য জায়গায় যত্রতত্র ফেলে রাখা ময়লার স্তূপ। শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো চিন্তা নেই।
তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা যায় না। যেতে হয় হাটহাজারী সদর অথবা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অসুস্থ শরীরে এতো দৌড়ঝাঁপ না করে হল বা মেসে থাকা অনেক শিক্ষার্থীই জ্বর হলে পরিবারের কাছে চলে যান বলে জানান তারা। ডেঙ্গু রোধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তৎপরতা চোখে না পড়লেও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উদ্দীপ্ত বাংলাদেশের উদ্যোগে মঙ্গলবার ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো হয়েছে।
সংগঠনটির সভাপতি হাসিবুল ইসলাম বলেন, পুরো ক্যাম্পাসে কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব না হলেও বেশ কিছু হল, অনুষদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্প্রে করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, আমরা শিগগিরই একটি সেমিনারের আয়োজন করব। যেন ক্যাম্পাসে এডিস মশার বিস্তার রোধে করণীয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা সচেতন হতে পারে। জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্ ফোরকান বলেন, ডেঙ্গু রোধে আমাদের প্রাথমিক পদক্ষেপ হওয়া উচিত সচেতনতা।
ক্যাম্পাসে এর বিস্তার না ঘটলেও আমরা যারা বিভিন্ন কাজে শহরে বা ক্যাম্পাসের বাইরে যাই তাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের কক্ষ বা বারান্দার ফুলের টব ও হলের আশপাশের নিচু জায়গায় যেন পানি জমতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কেএম নুর আহমদ বলেন, আমি ইউএনও ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বেশ কয়েকবার বলেছি। চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ফগার মেশিন নষ্ট থাকায় ব্যবস্থা নিতে পারেনি।