মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৭ অপরাহ্ন
আবুল হাসনাত মিনহাজ-চট্টগ্রাম: ১৪ দফা দাবি আদায়ে কক্সবাজার, বান্দরবানসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের ২৬টি রুটে আজ (বুধবার) সকাল থেকে পরিবহন ধর্মঘট চলে। সকাল ৬টা থেকে শুর হওয়া এই ধর্মঘট সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে বলে জানিয়েছে পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।সড়কে শৃঙ্খলা আনা, বিআরটিএ’র অনুমোদন ব্যতীত স্লিপার কোচ চলাচল নিষিদ্ধ করা, অবৈধ থ্রি হুইলার বন্ধ করাসহ ১৪ দফা দাবিতে এই ধর্মঘটের ডাক দেয় সংগঠনটি।বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সকাল থেকে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন গন্তব্যের শত শত যাত্রী কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এলাকায় আটকা পড়েন।
আরও পড়ুন : নির্বাচন শেষে ১৫ দিন পর্যন্ত পুলিশ মোতায়েন : ইসি
দুপুর ১২টা,নতুন ব্রিজ,মইজ্জানটেক চত্বরে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন হাজারও যাত্রী। সেই সাথে দেখা গেছে অনেক পরীক্ষার্থীকেও। তারাও তাদের পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে। তবে বাসের দেখা নেই। বাস না থাকার সুযোগে বাড়তি ভাড়া আদায় করতে ব্যস্ত অন্যান্য যানবাহনগুলো। আর সেই গাড়িগুলোতেও উপচে পড়া ভিড়। গাড়ি না পেয়ে অনেকেই পায়ে হেঁটে গন্তব্যের রওনা হলেন। আবার কেউ অতিরিক্ত ভাড়ায় অন্য কোন বাহনে চেপেছেন। বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা শারমিন নামের এক যাত্রীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘নিউ মার্কেট যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছেন। তবে রাস্তায় নেমে একটি বাসও পাননি। পরে আনোয়ারা থেকে অনেক কষ্ট করে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে পৌঁছেছেন। সিএনজি অটোরিকশা নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে দিতে হয়েছে দ্বিগুন বাড়তি টাকা।
তাছাড়া অধিকাংশ যাত্রী ধর্মঘটের কথা না জানার কারণে অস্থায়ী বাস টার্মিনাল বা কাউন্টার গুলাতে রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের।যাত্রীদের অভিযোগ কোন ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়া এটা কী ধরনের ধর্মঘট? এই ধর্মঘট সম্পর্কে আমরা তো কিছুই জানি না’, বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীরা। চট্টগ্রাম-দক্ষিণাঞ্চল-কক্সবাজার-বান্দরবান জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও আরাকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুছা বলেন, আমরা একই দাবিতে গত ৯ অক্টোবর দুই ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করেছিলাম। ওই দিনের ধর্মঘট ছিল একটি প্রতীকী কর্মসূচি।সামনে সনাতন ধর্মালম্বী মানুষদের দুর্গা পূজা। এ অবস্থায় আমরা আজকে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মঘট পালন করছি। তাছাড়া আমাদের বাস বন্ধ হলেও রাস্তায় তিন চাকার গাড়ি চলমান আছে। একইসঙ্গে পরীক্ষার কথা চিন্তা করে আমরা বাস ছাড়া বাকি অন্য কোনো গাড়িকে বাঁধা দিচ্ছি না।