বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন

যত দুঃখ কষ্ট সব গরীবের উপর হরতাল অবরোধে সাধারণ মানুষের আক্ষেপ

যত দুঃখ কষ্ট সব গরীবের উপর হরতাল অবরোধে সাধারণ মানুষের আক্ষেপ

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব :  যত দুঃখ কষ্ট সব গরীবের উপর। আমরা হরতাল অবরোধ চাইনা যে হরতাল অবরোধ আমাদের স্ত্রী সন্তানদের না খেয়ে থাকতে হয় আক্ষেপের সাথে “প্রতিদিনের কাগজকে”কথাগুলো বলছিলেন ভৈরব বাজারের রহমত উল্লাহ নামে একজন দিন মজুর। যারা হরতাল করে তাদের ঘরে কোন অভাব নাই । তারা কি বুঝবে আমাদের মত গরীব লোকদের কান্না। বাড়িতে স্ত্রী সন্তান বসে থাকে বাজারের আশায় আর আমরা বসে থাকি কাজের আশায়। বিএনপি-জামায়াতের দেয়া দফায় দফায় হরতাল অবরোধের ব্যবসা বানিজ্যের প্রাণ কেন্দ্র বন্ধর নগরী ভৈরবে ব্যাবসা বানিজ্যে দেখা দিয়েছে মন্দা ভাব। কমে গেছে বেচা কেনা। ব্যবসায়ীদের গুনতে হচ্ছে লোকশান। দিন মজুর আর শ্রমমজুররা হচ্ছে কর্মহীন। পরিবারের ভরণ পোষন করতে গিয়ে হতদরিদ্রদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। হরতাল অবরোধ না দিয়ে সুষ্ট সমাধানে আসার রাজনৈতিক দলদের প্রতি আহ্বান জানান সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, হরতাল আর অবরোধে ট্রেনসহ কিছু যানবাহন চললেও দুরপাল্লার পরিবহন খুব একটা যাতায়াত করেনা। দুরপাল্লার খুব স্বল্প সংখ্যক বাস চলতে দেখা গেলেও তাতে যাত্রী থাকে খুবই কম। যাত্রী কম থাকায় খেটে খাওয়া মানুষের রোজীও কমে যায়। কমে যায় হোটেল রেস্তোরায় বেচা কেনা। ব্যবসা প্রতিষ্টানের ভাড়া আর কর্মচারীদের বেতন দিয়ে লোকশানে পড়ে মহাজনরা। যানবাহনে নাশকতার ভয়ে দুর দুরান্ত থেকে নিত্য পণ্য নিয়ে তেমন একটা আসেনা। যদিও আসে খরছ বেড়ে যায় দ্বিগুন। ফলে বাজারে এর প্রভাব পড়ায় সাধারন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা চলে যায় নাগালের বাইরে। অবরোধে অপ্রীতিকর অবস্থা এড়াতে মোড়ে মোড়ে সতর্ক অবস্থানে থাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানিয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাও।

আরও পড়ুন:আবারও গম বোঝাই ট্রাকে আগুন

ভৈরব রেলষ্টেশনের ফল ব্যবসায়ী জাফর মিয়া, ইয়াসিন মিয়াসহ আরো কয়েকজন বলেন, হরতালে ট্রেন আসলেও তাতে যাত্রী অনেক কম থাকায় বেচাকেনা নাই। সারা দিনে যেখানে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বেচাকেনা হত সেখানে এখন সারা দিনে ১ হাজার টাকাও বেচাকেনা করতে পারিনা।
লঞ্চ মালিক সেলিম মিয়া বলেন, প্রতিদিন টিপে কম করে হলেও যেখঅনে শতাধিক যাত্রী হত হরতালে সেখানে এখন ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী নিয়ে টিপ মারতে হয়। এতে করে আমাদের জ্বালানি খরছও উঠেনা। তারপর রয়েছে ষ্টাফদের বেতন। এভাবে চলতে থাকলে দেশের ব্যবসা বানিজ্য ধ্বংস হয়ে যাবে। যে কদিন হরতাল চলে ততদিন আমরা লোকশানে পড়ি।

ব্যবসায়ী মিলন সরকারে সাথে কথা হলে বলেন, দুরদুরান্ত থেকে মালামাল আনতে পারিনা। যাও কিছু আনা যায় তাতে খরছ বেশি কারণ পর্যাপ্ত পরিমান যান বাহণ না চলায় নির্ধারি ত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুন দিতে হয়। এতে পণ্যের খরছ বেড়ে যায়। ভৈরব বাজারের মনসুর আলম বলেন, মাল নিয়ে নৌকা আসতে পারছেনা। কাঁচামাল সময় আমদানী রপ্তানি করতে না পারলে এগুলোতে পচন ধরে। হরতাল অবরোধে সময় মত মাল বেচাকেনা করা যাচ্ছেনা। অনেক মাল নষ্ট হয়ে গেছে। এ হরতালে মালামালের দাম বেড়ে যায়। হোটেল ব্যাবসায়ী মিলন, আলকাছ, কাশেম ও কামাল মিয়া বলেন, হরতালে যানবাহন কিছু চললেও সেগুলোতে যাত্রী থাকে অনেক কম। ফলে বেচাকেনা নাই বললেই চলে। আমাদের দোকানপাট খূলে রাখি যদিও কিছু বেচাবিক্রি করতে পারি তাতে অন্তত স্টঅফ খরছ ও ভাড়ার টাকাটা তুলা যায়কিনা। কিন্তু তাও হয়না। যে কদিন হরতাল অবরোধ চলে এ কদিন আমরা লোকশানে পড়ি।

খেটে খাওয়া কয়েকেজন মানুষের সাথে কথা হলে তারা বলেন, কাজের উদ্দ্যেশ্যে আমরা সকালে আমাদের যার যার কর্মে চলে আসি। কিন্তু লোকজন কম থাকায় অলস বসে আছি। মালামাল না আসলে আমাদের কোন কাজ নেই। খালি হাতে বাড়ি থেকে এসেছি আবার খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হয়। স্ত্রী সন্তানদের ভরণ পোষন করতে পারিনা। রিক্সা , অটো ও সিএনজি চালকদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, সারাদিনে মহাজনের জমার টাকাও তোলতে পারছিনা। তাছাড়া দৈনন্দিন সংসারের খরছ আবার কিস্তির টাকাতো রয়েছেই। এ অবস্থায় আমরা অনেক কষ্টের মধ্যে আছি। যারা হরতাল অবরোধ করে তাদের ঘরেতো আর অভাব নাই। তারা বুঝবে কি আমাদের কষ্ট। যত দুঃখ আর কষ্ট সব গরীবের উপর।

ভৈরব চেম্বার অব-কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি সভাপতি আলহাজ্ব হুমায়ূন কবির বলেন, বিএনপি জামায়াত হরতাল অবরোধ জ্বালাও পোড়াওয়েল নামে যে সমস্থ কর্মকান্ড সারা বাংলাদেশে চালাচ্ছে এতে করে ব্যাবসায়ীরা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। হরতাল অবরোধে আমদানী রপ্তানি দুটোই কমে গেছে। আমরা যেহেতু একটা মোকাম আমাদের অমদানী করতে হয় চিটাগাং ঢাকা থেকে। এ অবস্থায় ঢাকা ও চিটাগাং থেকে মালামাল আসতেছেনা। ঐ সমস্ত এলাকা থেকে মাল আসলে আমরা হাওর বাওর এলাকাসহ বিভিন্ন মোকামে মালামাল বেচাকেনা করতে পারি। হরতাল অবরোধের কারনে ভৈরবের ব্যাসায়ীরামারত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কোটি কোটি টাকা আমাদের লোকশান হচ্ছে। হরতাল অবরোধের নামে যারা নৈরাজ্য করতেছে তাদের এর বিকল্প চিন্তা ভাবনা করা উচিৎ। নির্বাচনেই একমাত্র সমাধান রাজপথে কোন সমাধান নয়। আমি তাদের প্রতি আহ্বান জাানাই তারা যেন এসব নৈরাজ্য ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে চলে আসে।

 

প্রতিদিনের কাগজ

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |