মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৪ অপরাহ্ন
চট্টগ্রাম অফিসঃ কোতোয়ালী থানাধীন সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সিএমপির কোতোয়ালী থানার অভিযানে ডাকাতি সংঘটনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার ও ২ জন ডাকাত গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।
এঘটনায় গত ৯ মে, মোঃ শাহাদাত হোসেন (৩৩) বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় এজাহার দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী পেশায় একজন ব্যবসায়ী।তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ কোতোয়ালী থানাধীন আন্দরকিল্লাস্থ একটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের দোকান পরিচালনা করে আসছেন। বাদী গত ৯ মে তার বাসা থেকে একটি নেভি-ব্লু রঙের কাঁধের ব্যাগ, যার ভিতর রক্ষিত নগদ ২,১০,০০০/- টাকা, একটি রেডমি নোট-৯এ মোবাইল সেট ও একটি রেডমি নোট-৫ মোবাইল সেট নিয়ে দোকানের উদ্দেশে রওয়ানা করেন। তিনি সকাল আনুমানিক ১০.০০ ঘটিকার সময় আন্দরকিল্লা চৌরঙ্গী হোটেলের পাশে তার দোকানে পৌঁছে দোকানের সামনে দাঁড়ানোমাত্রই ২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী অজ্ঞাতনামা ০৬ জন ব্যক্তি পরস্পর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে বলতে বাদীর দোকানের সামনে আসে। একপর্যায়ে অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাদের হাতে থাকা টিপছোরা দিয়ে বাদীর গতিরোধ করে বাদীর কাঁধে থাকা ব্যাগটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য টানা-হেঁছড়া করতে থাকে। বাদী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের উক্তরূপ আচরণে ডাক-চিৎকার করতে চাইলে অজ্ঞাতনামা আসামিরা বাদীকে চড়থাপ্পড় মেরে তাদের হাতে থাকা টিপছোরা দিয়ে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে বাদীর সাথে থাকা টাকা ও মোবাইল সেট ভর্তি ব্যাগটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত টেরিবাজার অভিমুখে পালিয়ে যায়।
এঘটনায় বাদী অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করিলে তারই ভিত্তিতে,তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনিরুল আলম খোরশেদ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিয়ো ফুটেজ পর্যালোচনা করে ।
কোতোয়ালী থানার টিম আসামিদের গ্রেফতার করার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিতিত্তে করে তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় গত ০৯/০৫/২০২৪ খ্রি. কোতোয়ালী থানাধীন মেরিনার্স রোডস্থ এস আলম বাস ডিপোর বিপরীত পাশে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে মামলার ঘটনার সাথে জড়িত আসামিরা বাদীর নিকট থেকে লুণ্ঠিত নগদ টাকা ও মোবাইল সেট নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করাকালীন সময়ে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সহায়তায় বাদীর শনাক্তমতে ০২ জন আসামিকে আটক করলেও অন্যরা দৌড়ে কর্ণফুলী নদীতে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা সাক্ষীদের সম্মুখে ধৃত আসামিদ্বয়ের দেহ তল্লাশিকালে ১নং আসামি মোঃ জসিম উদ্দিন (৪৪)-এর হাতে থাকাবস্থায় (ক) ০১টি নেভি ব্লু রঙের পুরাতন কাঁধের ব্যাগ, যার ভিতর রক্ষিত (খ) ০১টি রেডমি মোবাইল সেট, (গ) নগদ ১,৬০,০০০/- টাকা এবং ধৃত ২নং আসামি মোঃ ইদ্রিস (৩০)-এর দেহ তল্লাশিকালে তার পরিহিত প্যান্টের সামনের বাম পকেট থেকে (ঘ) নগদ ৫০,০০০/- টাকা ও তার ডান পকেট থেকে (ঙ) ০১টি রেডমি মোবাইল সেটসহ সর্বমোট নগদ ২,১০,০০০/- টাকা, ০১টি কাঁধব্যাগ ও ০২টি মোবাইল সেট উদ্ধারপূর্বক ০৯/০৫/২০২৪ খ্রি. ২২.৩০ ঘটিকার সময় জব্দতালিকামূলে জব্দ করেন।
কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ ওবায়েদুল হক সাংবাদিকদের জানান,লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের ঘটনায় আরো কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।