মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ন

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন ২১ মে : প্রচারণায় সাড়া নেই সাধারণ ভোটারের

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন ২১ মে : প্রচারণায় সাড়া নেই সাধারণ ভোটারের

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন ২১ মে : প্রচারণায় সাড়া নেই সাধারণ ভোটারের

মোঃ হাসানুজ্জামানঃ প্রথম ধাপে চট্টগ্রামের তিন উপজেলায় নির্বাচন শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ২১ মে রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাউজান উপজেলায় এ ধাপে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তিন পদেই একক প্রার্থী থাকায় তারা বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে গেছেন।

বাকি তিন উপজেলার মধ্যে রাঙ্গুনিয়ায় চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও প্রার্থীরা বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে শুধু ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হচ্ছে। ওই পদে তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফটিকছড়িতে চেয়ারম্যান পদে দুজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। হাটহাজারীতে চেয়ারম্যান পদে তিনজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী রয়েছেন।

সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া প্রথম ধাপের নির্বাচনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সীতাকু-, মিরসরাই ও সন্দ্বীপ এ তিনটি উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় অনেক কম ভোট পড়েছে। চার মাস আগে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মিরসরাই আসনে ভোট পড়েছিল ৩৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আর উপজেলা নির্বাচনে সেখানে ভোট পড়েছে মাত্র ১৭শতাংশ। একইভাবে সীতাকুন্ডে সংসদ নির্বাচনে ৩৭ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট পড়লেও উপজেলা নির্বাচনে পড়েছে ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ। সন্দ্বীপে সংসদ নির্বাচনে ৩৬ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট পড়লেও উপজেলা নির্বাচনে ভোট পড়েছে ১৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ নির্বাচন নিয়ে খুব একটা আগ্রহ নেই ভোটারদের মধ্যে। সবকটি পদে আওয়ামী লীগ ঘরনার লোকজন প্রার্থী হওয়ায় কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে পড়া দলীয় নেতাকর্মীর বাইরে সাধারণ লোকজনের ভোটের আমেজ দেখা যাচ্ছে না।

ফটিকছড়ির নাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মোঃ লিটন এ প্রতিবেদককে বলেন, সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা অংশ নিয়েছিলেন। তাছাড়া আওয়ামী লীগ দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। যে কারণে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের অংশগ্রহণ ছাড়াও ভোটের আমেজ তৈরি হয়েছিল। উপজেলা নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনো মাথাব্যথা নেই। তিনি বলেন, প্রার্থী ও তাদের গুটিকয়েক কর্মী-সমর্থকই নির্বাচনী মাঠে দৌড়াদৌড়ি করছে। এর বাইরে প্রচারণায় মানুষের খুব একটা অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে না।

হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ এলাকার স্কুলশিক্ষক আবিদ রহমান বলেন, এর আগে কয়েকটি নির্বাচনে মানুষের ভোটের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার মতো আগ্রহ মানুষের নেই। তিনি বলেন, ‘সব তো একই দলের লোক। ভোট দিলেও যা হবে না দিলেও তা হবে। যারা ভোট নেওয়ার তারা নিয়ে নেবে। অতীত তো তাই বলে। তাহলে আর কষ্ট করে ভোট দিতে যাওয়ার দরকার কী।’

তৃতীয় ধাপে চট্টগ্রামের আরও চারটি উপজেলায় নির্বাচন হবে। এগুলো হলো আনোয়ারা, বোয়ালখালী, পটিয়া ও চন্দনাইশ। গত ২ মে সেখানে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ১২ মে মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন ধার্য রয়েছে। ২৯ মে সেখানে ভোট হওয়ার কথা। চতুর্থ ধাপে ৫ জুন বাঁশখালী ও লোহাগাড়া উপজেলায় নির্বাচন।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |