মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক মাইন উদ্দিনের দুর্নীতি!

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক মাইন উদ্দিনের দুর্নীতি!

                                           স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টার কাছে ডিজি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ

অভিযোগে বলা হয়েছে, সমরে আমরা শান্তিতে আমরা সর্বত্র আমরা দেশের তরে’- এ মূলমন্ত্র ধারণ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত হচ্ছে।  জন্মলগ্ন থেকেই অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা ও চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ একটি দক্ষ ও চৌকস বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বপরিমণ্ডলে আজ একটি অতি পরিচিত ও গর্বিত নাম। সামরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অকুতোভয় সদস্যরা সকল ক্ষেত্রে অসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যগণ বিভিন্ন অধিদপ্তরে প্রেষণে কর্মরত রয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রতিটি কর্মকর্তাগণ চাকুরিতে যোগদানের পূর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণে এবং দুর্নীতি না করার পবিত্র শপথ গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রি: জে: মো. মাইন উদ্দিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শপথ ভঙ্গসহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর মতো সেবাদান প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত করেছে। তার ভাই নুর উদ্দিন আনিছ কে দিয়ে নিয়োগ -বদলী বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, মানি লন্ডারিং ও অন্যান্য খাতে ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও সিঙ্গাপুর, আমেরিকা, তুরস্ক সহ অন্যন্যা দেশে পাঁচার করে সেনাবাহিনী ও দেশের ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন করেছেন। তার ছোট ভাই নূর উদ্দিন আনিছ, সালাউদ্দিন ও তাদের সিন্ডিকেট কর্তৃক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে তাদের একটি ব্যক্তিগত বানিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তার এ মহাদুর্নীতির কারণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক থেকে প্রত্যাহার করে অৎসু অপঃ, ১৯৫২ অনুযায়ী চাকুরি হতে সামরিক বরখাস্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ সাধারণ ফায়ার কর্মীদের প্রতিকার পাওয়ার লক্ষ্যে সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিম্নে তার এবং তার পরিবারের দুর্নীতির চিত্র ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো:

সাবেক দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী, মুখ্য সচিব, সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন ভিআইপি নাম ভাংগিয়ে নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি: 
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রি: জে: মোঃ মাইন উদ্দিন ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করে ফায়ারফাইটার ও ড্রাইভারসহ মোট ৮০০ জন নিয়োগ প্রদান করেন। উক্ত নিয়োগে তার আপন ছোট ভাই নূর উদ্দিন আনিস, সালাউদ্দিন ও তাদের সিন্ডিকেট সদস্য ডিএডি শাহ ইমরান, ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মতিউর রহমান পাটোয়ারী, উপ পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) জসিম উদ্দিন, সহকারী পরিচালক(ওয়ারহাউজ) মানিকুজ্জামান, সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহীন আলম (পোস্তগোলা) ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর জাকির গং কর্তৃক জনপ্রতি ১৫ লক্ষ টাকা থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে প্রায় ৩৫০ লোকের চাকুরি প্রদান করেন। উক্ত নিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি টাকা আয় করে। এছাড়া এর কয়েকমাস পরে ৫৫০ জন ফায়ার ফাইটার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করে অতিরিক্ত ১০০জন সহ মোট ৬৫০ নিয়োগ প্রদান করেন। এ নিয়োগে বর্তমান ডিজি সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন ভিআইপি গণের নাম ভাংগিয়ে ৬৫০ জনের মধ্যে প্রায় তার ভাইকে দিয়ে ৩০০ প্রার্থী থেকে জনপ্রতি ১৫ লক্ষ টাকা করে নিয়ে চাকুরি দিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি করেন। মন্ত্রী, সচিব, মূখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন ভিআইপিগণের নামে ভূয়া তালিকা প্রণয়ন করে নিয়োগ কমিটি সদস্যগণকে চাকুরি দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে নিয়োগ প্রদান করেন। বর্ণিত দুটি নিয়োগে মহাপরিচালক ও তার ভাইগণের সিন্ডিকেট দ্বারা প্রায় ৭০ কোটি টাকার নিয়োগে দুর্নীত করেন। তার ভাই আনিস প্রকাশ্যে বলে থাকেন যে, সাবেক মুখ্য সচিব এর বাসায় প্রতিমাসে ৫ লক্ষ টাকার বাজার ও বিভিন্ন উপহার প্রেরণ করা হয়। এ কাজে মুখ্য সচিবের এলাকার ড্রাইভার শাখাওয়াত কে নিয়োজিত করে রাখা হয়েছে। শাখাওয়াত ফায়ার সার্ভিসের একজন সামান্য ড্রাইভার হলেও মুখ্য সচিবকে ম্যানেজ করার জন্য তাকে কোন ডিউটি করতে হয় না। সে নিয়মিত সাকেব মূখ্য সচিবের বাসায় গিয়ে মহাপরিচালকের তদবির ও উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার কাজ করতেন।

নূর উদ্দিন আনিছের অভিনব পদ্ধতিতে সেফটি প্ল্যানে কোটি কোটি টাকার দূর্নীতি: 
মহাপরিচালকের ছোট ভাই নূর উদ্দিন আনিস ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত ফায়ার সেফটি প্লান কনসালটেন্সি ফার্মসমূহের মধ্যে ১০টি কনসালটেন্সি ফার্মের সাথে ৩০০/- ষ্ট্যাম্প এ চুক্তির মাধ্যমে ৫০% পার্টনারশীপ গ্রহণ করেছে। এ সকল ফার্মের মাধ্যমে সকল সেফটি প্ল্যান পাশ হয়ে থাকে। তার ভাইয়ের পার্টনারশীপ কনসালটেন্সি ফার্মসমূহ ব্যতিত কেও প্ল্যান অনুমোদন করতে পারেন না। প্রতিটি প্ল্যান পাশ করতে ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা গ্রহণ করে থাকে।

দুর্নীতির স্বর্গ রাজ্যে পরিনত করে ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ: 
মহাপরিচালকের ছোট ভাই নূর উদ্দিন আনিস ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত ফায়ার সেফটি প্ল্যান কনসালটেন্সি ফার্মসমূহের মধ্যে ভিস্তা (বিডি) ইঞ্জিনিয়ারিং, বাসা নং-০৭, ব্লক নং-১৪, পল্লবী, মিরপুর-১২ সেফটি প্ল্যান, নিয়োগ বদলী বানিজ্য করার জন্য দুর্নীতির স্বর্গ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। উক্ত অফিসে নূর উদ্দিন আনিস সপ্তাহে ৩দিন অফিস করেন। সে অফিসে সন্ধ্যার পর ফায়ার সার্ভিসে সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ ঘুষ লেনদেন করে থাকে। বিভিন্ন তদবির করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাগণের লাইন লেগে যায়। যার ঘুষের পরিমান বেশি নূর উদ্দিন আনিস তাকে আগে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়। এছাড়া তার ২য় হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের সবচেয়ে বড় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ফন ইন্টারন্যাশনালের লিয়াজো অফিস যার ঠিকানা বাড়ী নং-১৯, রোড নং-৮/এ, নিকুঞ্জ-১, ঢাকা। উক্ত ফন ইন্টারন্যাশনাল প্রতিবছর ফায়ার সার্ভিসে ৫০০ কোটি থেকে ১০০০ কোটি টাকার গাড়ী পাম্প ও অন্যান্য মালামাল সরবরাহ করে থাকে। উক্ত প্রতিষ্ঠানের সাথেও নূর উদ্দিন আনিস পার্টনারশীপ ব্যবসা পরিচালনা করে। উক্তি অফিসেও সে সপ্তাহে ৩দিন বসে থাকেন। বর্ণিত ২টি অফিসে গোয়েন্দা দিয়ে তদন্ত করতে বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে।

বেআইনী বদলী বাণিজ্য: 
সংবিধানের ১৩৩ ধারায় বলা আছে, এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে সংসদ আইনের দ্বারা প্রজাতন্ত্রের কর্মে কর্মচারীদের নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলী নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবেন; তবে শর্ত থাকে যে, এই উদ্দেশ্যে আইনের দ্বারা বা অধীন বিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত অনুরূপ কর্মচারীদের নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলী নিয়ন্ত্রণ করিয়া বিধিসমূহ প্রণয়নের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে এবং অনুরূপ যে কোন আইনের বিধানবলী সাপেক্ষে অনুরূপ বিধিসমূহ কার্যকর হইবে। এই আইন অনুযায়ী অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ১ম শ্রেণী কর্মকর্তাগণের সব ধরনের বদলী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করতো। বদলীর আদেশে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উল্লেখ্য করা হতো। কিন্তু বর্তমান মহাপরিচালক কোন আইনের তোয়াক্কা না করে বলে থাকেন যে পুলিশের এডিশনাল এসপি ৬ষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত বদলী করে আইজিপি মহোদয় আমি কেন ১ম শ্রেণী বদলী করতে পারবো না। অথচ উনি ভুলে গেছেন যে, আইজিপি মহোদয় সিনিয়র সচিব সমমান আর মহাপরিচালক হচ্ছে অতিরিক্ত সচিব সমমান। উনার এসকল বেআইনী বদলীর কারণে অধিদপ্তরে বিশৃংখলা দেখা দিয়েছে। মহাপরিচালক এর ছোট ভাই নূর উদ্দিন আনিসকে ১ম শ্রেণী বদলী বাবদ ২০ লক্ষ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। ফলে অধিদপ্তরে অযোগ্য অদক্ষ কর্মকর্তাগণ টাকার বিনিময়ে পোষ্টিং নিয়ে তারা ঘুষ বাণিজ্য ব্যতিত তাদের নিকট অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারে না। মহাপরিচালকের আপন ছোট ভাই নূর উদ্দিন আনিস পদবীভেদে বদলীর জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে থাকে। সহকারী পরিচালক সাবেক ওয়ারহাউজ  মানিকুজ্জামানকে ৩০ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে এ পদে বদলী করে আনে নূর উদ্দিন আনিস। পরে যদিও তাকে বদলী করা হয়েছে। এ পদে দুর্নীতিবাজ আনোয়ার হোসেনকে ৪০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বদলী করে আনা হয়। বহুতল ভবনের ছাড়পত্র ও সেফটি প্ল্যান পাশ করানোর জন্য তাকে এ পদে বদলী করে আনা হয়েছে। তার এহেন বদলী বানিজ্যের খবর পেয়ে গত বছর সুরক্ষা সেবা বিভাগ কর্তৃক বদলীর নীতিমালা প্রণয়ন করে। কিন্তু মহাপরিচালক সুরক্ষা সেবা বিভাগের নীতিমালা অনুসরণ না করে অদ্যাবধি তার বদলী বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

কোটেশনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি: 
সরকারের ক্রয় নীতি বহির্ভূতভাবে উন্নয়ন শাখার কোটি কোটি টাকার কোটেশনে মহাপরিচালক এর ভাই নূর উদ্দিন আনিস কাজ না করে বিল দাখিলের মধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে। সরকারী ক্ষয় নীতিমালা অনুযায়ী সারা বছর সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকার বেশি কোটেশনে ক্রয় করা যাবে না। অথচ কোটি কোটি টাকার কোটেশন অবৈধভাবে কাজ না করে হাতিয়ে নিচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে ১২ কোটি টাকার কোটেশন করে কোন কাজ না করে লুটপাট করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। সঠিক তদন্ত করলে ১২ কোটি টাকার দুর্নীতি প্রমান হবে। তার এ কাজের সহযোগিতা করে থাকে উন্নয়ন শাখার কর্মরত ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মতিউর রহমান পাটোয়ারী।

বহুতল ভবনের ছাড়পত্র ও সেফটি প্ল্যান অনুমোদনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি:
যে সকল বহুতল ভবন ছাড়পত্র পাওয়ার যোগ্য নয় সেসকল ভবনের ছাড়পত্র ক্ষেত্রভেদে ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মহাপরিচালক এর ভাই নূর উদ্দিন আনিস চুক্তির মাধ্যমে সম্পাদন করে থাকে। তার এ কাজে সার্বিক সহযোগিতা করে বর্তমান সহকারী পরিচালক (ওয়ারহাউজ) আনোয়ার হোসেন।

ফায়ার লাইসেন্স এর দুর্নীতি: 
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মোট ২৬৭টি ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর কর্মরত রয়েছে। উক্ত ইন্সপেক্টরগণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে ফায়ার লাইসেন্স প্রদান করে থাকে। প্রতিটি ইন্সপেক্টর থেকে মাসিক হিসেবে এলাকাভেদে ৫০ হাজার হতে ২ লক্ষ টাকা নূর উদ্দিন আনিস মাসোয়ারা হিসেবে নিয়ে থাকে। কোন ইন্সপেক্টর টাকা দিতে না চাইতে তাকে খারাপ ও দূরবর্তী স্থানে বদলীর হুমকী প্রদান করে। এছাড়া যেসকল প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য নয় সেসকল লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে ক্ষেত্রভেদে ১ থেকে ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মহাপরিচালক এর ভাই নূর উদ্দিন আনিস চুক্তির মাধ্যমে সম্পাদন করে থাকে।

প্যাকেজ ট্রেনিং সেল এর মধ্যমে দুর্নীতি: 
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টস ও ফেক্টরীতে নির্ধারিত ফি এর বিনিময়ে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে। উক্ত ট্রেনিং এর ফান্ডে অদ্যাবধি ১০ কোটি টাকার উর্ধে সংরক্ষিত রয়েছে। উক্ত টাকা আত্মসাতের জন্য মহাপরিচালক এর ভাই নূর উদ্দিন আনিস বিভিন্ন রকম চক্রান্ত শুরু করেছে। উক্ত টাকা যাতে আত্মসাৎ না করতে পারে সেজন্য নিরপেক্ষ অডিট টিম দ্বারা একটি অডিট করা প্রয়োজন।

কেন্দ্রীয় ষ্টোর এর কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি: 
সরকারের ক্রয় নীতি বহির্ভূতভাবে কেন্দ্রীয় ষ্টোর থেকে কোটি কোটি টাকার কোটেশনে মহাপরিচালক এর ভাই নূর উদ্দিন আনিস কাজ না করে বিল দাখিলের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে। টেন্ডারের কাগজপত্র সঠিক না থাকা সত্বেও তার পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিতে বাধ্য করছে। তার পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ না দেয়ায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে সাবেক সহকারী পরিচালক ষ্টোর মামুনুর রশিদকে এ পদ থেকে ঢাকার বাহিরে বদলী করে দিয়েছে। মহাপরিচালক প্রকাশ্যে দরবারে বলেছেন যে, এডি ষ্টোর আমার ফোন রিসিভ করতে দেরি করেছে তাই বদলী করেছি। নিম্নমানের রেশন সরবরাহ করে দুর্নীতে মহাপরিচালক এর ভাই নূর উদ্দিন আনিস নেয়াখালী, কুমিল্লা জেলাসহ বিভিন্ন জেলায় নিম্নমানের ডাল সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সরেজমিনে তদন্ত করলে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যাবে। রেশন সংক্রান্ত দুর্নীতি বিষয়ে স্থানীয় পত্রিকায় রিপোর্ট প্রচার হয়েছে।

পূর্বাচলে ক্যান্টিনে ব্যাপক দুর্নীতি: 
পূর্বাচল ফায়ার সার্ভিসের ট্রেনিং সেন্টার বাহিরের কোন খাবার কেও ক্রয় করতে পারেনা। সেখানে মহাপরিচালক এর ছোটভাই নুর উদ্দিন আনিস কর্মচারীর মাধ্যমে ক্যান্টিন পরিচালনা করে থাকে। যে জিনিসের দাম ৫০/- বাজারে সেই জিনিস ক্যান্টিন থেকে ক্রয় করতে হয় ১২০/- করে। এই ক্যান্টিন বানিজ্যের কারণে সাধারণ কর্মকর্তা/কর্মচারীগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ডিজিএফআইকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ:
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খ্রি: জে: মোঃ মাইন উদ্দিন, তার ছোট ভাই নূর উদ্দিন আনিস ও তাদের সিন্ডিকেট কর্তৃক কথায় কথায় কর্মকর্তাগণকে হুমকী প্রদান করে থাকে যে আমাদের কথার বাহিরে কেও কথা বললে ডিজিএফআইকে দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে নির্যাতন করা হবে। ডিজিএফআই সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা। এ সংস্থা দেশের জন্য কাজ করে থাকে। বর্তমান মহাপরিচালক পূর্বে ডিজিএফআইএ কর্মরত ছিল বিধায় তার নাকি ডিজিএফআই হাতের মুঠতে থাকে মর্মে তার ভাই নূর উদ্দিন আনিস সকলকে যে কোন অন্যায় মেনে নিতে বাধ্য করেন।

বঙ্গবাজার অগ্নিকাণ্ডের চরম ব্যর্থতার অভিযোগ: 
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রি: জে: মোঃ মাইন উদ্দিন ঢাকা শহরের সকল দক্ষ ফায়ারফাইটার, লিডার, ড্রাইভার, সাব অফিসার, স্টেশন অফিসার, ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর, সিনিয়র স্টেশন অফিসার, উপ সহকারী পরিচালক, সহকারী পরিচালক ও উপ পরিচালকগণকে ঢাকার বাহিরে বদলীর মাধ্যমে ঢাকা শহরে অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণে দক্ষ কর্মীর চরম সংকট সৃষ্টি করেছে। সাবেক কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ বঙ্গবাজার মার্কেটে এ যাবৎ ১৮ বার মহড়া পরিচালনা করে। সাবেক কর্মকর্তাগণ দীর্ঘদিন যাবৎ পরিশ্রম করে বঙ্গবাজার মার্কেট এর অগ্নি নির্বাপন বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে এ অধিদপ্তরে দাখিল করে। উক্ত কর্মপরিকল্পনায় বঙ্গবাজার ফায়ার স্টেশনে আগুনের ঘটনা ঘটলে ঢাকা মহানগরের বিদ্যমান ১৭টি ফায়ার স্টেশনকে ১২ জোনে কিভাবে এবং কোথায় কোথায় দ্রুত ফায়ারফাইটার ও গাড়ী পাম্প মোতায়েন করতে হবে তা সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। উক্ত অফিসার কর্তৃক প্রণীত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করার কারণে বঙ্গবাজার মার্কেটের সকল দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে সকল পানি শেষ হয়ে গেছে। অথচ উক্ত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করলে প্রথমে শহিদুল হক হলের পুকুরে এবং ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের রির্জাভারের সাথে পাম্প সেট করা প্রয়োজন ছিল। অগ্নিকাণ্ডের প্রথম ১০ মিনিট গোল্ডের টাইম বিবেচনায় নিয়ে সাবেক কর্মকর্তাগণ উক্ত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। সে সময় ঢাকায় সহকারী পরিচালক হিসেবে আক্তার হোসেন ও ঢাকায় উপ পরিচালক দিনুমনি শর্মা কর্মরত ছিলেন। বর্ণিত কর্মকর্তাগণ অদক্ষ হিসেবে এ অধিদপ্তরে স্বীকৃত। এছাড়া মহাপরিচালক এর বদলী বাণিজ্যের কারণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। প্রকাশ থাকে যে, বঙ্গবাজার মার্কেটে আগুনের জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বিশেষ ফায়ার এলার্ম সেট করা আছে। অথচ বঙ্গবাজার ফায়ার হওয়ার পর উক্ত বিশেষ এলার্ম বাজানো হয়নি বিধায় ফায়ারকর্মীগণ সঠিকভাবে ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে। উক্ত নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে ইতোপূর্বে নিয়োজিত দক্ষ কর্মকর্তা/কর্মচারীগণকে বদলী করে তদস্থলে অদক্ষ কর্মকর্তা/কর্মচারী নিয়োগ করায় বঙ্গবাজার মার্কেটে ৫০০০ দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সাথে সাথে ২০,০০০ পরিবার পথের ফকির হয়ে গেছে। উক্ত অগ্নিকাণ্ডের ফলে দেশের ২০০০ কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়। সাবেক দক্ষ কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ যদি সেদিন ঢাকায় থাকতো তাহলে বঙ্গবাজার মার্কেটের জন্য বিশেষভাবে প্রণীত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণের কাজ যথাযথভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হতো।

কক্সবাজারের ইনানী বিচের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন জমি ক্রয়ে দুর্নীতি:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী বিচ পাটোয়ার টেক, রূপপতি, মাছকাইচ্ছাবিল এলাকায় মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন সরকারী টাকায় ব্যক্তিগত জমি ক্রয় করেন ডিজি মাইন উদ্দিন। এছাড়াও এখানে ফায়ার সার্ভিসের একটি একাডেমি করার জন্য জমি ক্রয় করলেও ফায়ারের ট্রাস্ট্রের টাকা পে-অর্ডার করে না দিয়ে ক্যাশ পরিশোধ করে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন ডিজি। উক্ত জমি বাজার মূল্য থেকে ১০ গুণ বেশি দেখিয়ে এ টাকাগুলো আত্মসাৎ করেন। যা তদন্ত করলে প্রমান পাওয়া যাবে।

মহাপরিচালক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং এর অভিযোগ: 
বর্তমান মহাপরিচলক এর দুই মেয়ে আমেরিকা প্রবাসী। মহাপরিচালক নিয়োগ, বদলী, টেন্ডার বাণিজ্যের ঘুষের টাকা হুন্ডির মাধ্যমে আমেরিকায় পাচার করে আসছে। তিনি মাঝে মাঝে বিদেশে যাওয়ার সময় নগদ কোটি কোটি ডলার নিয়ে পাচার করে থাকেন। তার ছোটভাই নূর উদ্দিন আনিস সম্প্রতি সিংগাপুর ও থাইল্যান্ডে গমন করে কোটি কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করে সিংগাপুর ও থাইল্যান্ড এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেছে।

স্বাধীনতা পুরুস্কারের নামে নিজের ছবিসহ স্মৃতিফলক নির্মাণ:
দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরুস্কার নেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাইন উদ্দিন। সেই পুরুস্কার নেওয়া ছবিটি দিয়ে অধিদপ্তরের ভিতরে মোড়ল বানিয়ে আজীবন নিজের স্মৃতিফলক নির্মাণ করেন দুর্নীতিবাজ ডিজি মাইন উদ্দিন। সরকার পরিবর্তনের পর সেই স্মৃতিফলক তেড়পাল দিয়ে ডেকে রেখেছেন ডিজি মাইন উদ্দিন। এছাড়া তিনি দায়িত্ব পেয়ে কয়েকবার শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে ছবি তুলেন, সেই ছবি বিভিন্ন মাধ্যমে পাঠিয়ে নিজের ক্ষমতা জাহির করেন। শেখ হাসিনার আমলে নিজেকে শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে ভয়ভীতি দেখাতেন তিনি। শেখ হাসিনার সরকার দেশ ছাড়ার পর বর্তমানের তিনি নিজেকে বিএনপির লোক হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন।

মহাপরিচালক হিসেবে যোগদানের পর তার ভাই আনিসের সম্পত্তি ক্রয়ের বিবরণী: 
৪ কোটি টাকার বনানীতে ৩০০০ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট, আফতাব নগরে ২টি প্লট, নিজ জেলা নোয়াখালীতে ৩ একর জমি ক্রয়। সিংগাপুর ও থাইল্যান্ডে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা। এছাড়া নামে বেনামে ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা। এছাড়াও টাকার বিভিন্ন স্থানে তার একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে।

মহাপরিচালকের গ্রামের বাড়ীতে মানুষের ক্ষোভ: 
মহাপরিচালকের ছোট ভাই নূর উদ্দিন আনিস ও সালাউদ্দিন তার নিজ এলাকার সকল মানুষকে বলে থাকেন যে আপনার জমি বিক্রি করলে জানাবেন বাজার মূল থেকে অনেক বেশি দাম প্রদান করা হবে। তাদের এহেন আচারনে গ্রামের লোকজন কানাঘুষা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে থাকেন যে, মাইনউদ্দিন কি আলাদিনের চেরাগ পাইলো যে তার ভাই দু’জন ১ বছরের মধ্যে কোটি কোটি টাকার জমি ক্রয় করে ফেলেছে। গ্রামের অন্যকোন মানুষকে মানুষ হিসেবে গণ্য করে না, সকলের জমি ক্রয় করতে চায়। কিছুদিন আগেও তার ছোট ভাই সালাউদ্দিন গ্রামের মধ্যে একটি ফার্মেসির দোকানদার হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে সেও কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। আলাদিনের চেরাগ না পাইলে কিভাবে ১ বছরে করে এত সম্পদ।

সূত্র:  নতুন  সময়

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |